হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ন্ত্রণ করে পজিটিভ থাকার উপায়

নাহিন আশরাফ · May 08, 2024 · 0 min read

হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ন্ত্রণ করে পজিটিভ থাকার উপায়

দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন ধরনের ফিলিংসের মধ্য দিয়ে যাই। জীবনে চলার পথে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনায় আমরা প্রকাশ করি রাগ,অভিমান, দুঃখ কিংবা আনন্দ। কিন্তু যেই অনুভূতিটা আমাদের মনের মধ্যে থাকলেও আমরা সচরাচর প্রকাশ করতে চাই না তা হলো হিংসা কিংবা জেলাসি। কষ্ট ও আনন্দের অনুভূতির মতো এই অনুভূতিটাও অত্যন্ত স্বাভাবিক। অফিসে হয়তো আপনি দেখছেন আপনি প্রচণ্ড হার্ড ওয়ার্ক করেও তার ফলাফল পাচ্ছেন না, কিন্তু আপনার কলিগ আপনার থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। আবার রাত জেগে পড়ালেখা করেও মনের মতো রেজাল্ট করতে পারলেন না কিন্তু আপনার বন্ধু আপনার থেকে ভালো নাম্বার পেয়ে গেলো। এমন অসংখ্য কারণে আমাদের আরেকজনের প্রতি জেলাসি বা হিংসাত্মক অনুভূতি হতে পারে। কিন্তু এই জেলাসি অজান্তেই সবার সাথে সম্পর্কগুলো নষ্ট করে এবং আমাদের ভালো থাকার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক কীভাবে হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ন্ত্রণ করে আমরা একটি হ্যাপি ও পজিটিভ লাইফ লিড করতে পারবো।

হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ন্ত্রণ করবেন কীভাবে?

আপনার অনুভূতিকে গ্রহণ করুন

জেলাসিকে মোকাবেলা করার জন্য প্রথমেই আপনি যে কারো উপর জেলাস ফিল করছেন তা মেনে নিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় আমরা কারো উপর জেলাস ফিল করলেও সেটা স্বীকার করতে চাইনা। প্রথমেই আপনাকে মেনে নিতে হবে এবং নিজের কাছে পরিষ্কার থাকতে হবে যে আপনার আরেকজনের সাফল্য দেখে কিছুটা খারাপ লাগছে। কিন্তু অপরাধবোধে ভুগবেন না। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক হিউম্যান ন্যাচার। আপনি একা নন, অনেকেই এই অনুভূতির মধ্য দিয়ে যায়।

হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ন্ত্রণ করে পজিটিভ থাকার উপায়
অন্যের সাথে নিজের তুলনা করা বন্ধ করুন

প্রত্যেক মানুষের জীবনের স্টোরি ও জার্নি আলাদা। আমাদের সবার জীবনের জার্নি আলাদা হবার পরেও নিজেদের জীবনের সাথে আমরা অন্যদের জীবন তুলনা করে ফেলি। এতে করে আমাদের মনে নেগেটিভ ফিলিংস সৃষ্টি হয়৷ সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে আমরা এখন খুব সহজে অন্যের জীবনের অ্যাচিভমেন্টগুলো জানতে পারি। কিন্তু এই অ্যাচিভমেন্টটা অর্জন করার আগে একজন কতবার ব্যর্থ হয়েছে এবং তাকে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে তা বেশিরভাগ সময় অজানাই থেকে যায়। তাই সেই সফলতার পেছনের গল্পটাও আমাদের জানা হয় না। অথচ আমরা ঠিকই তাদের সাফল্যের সাথে নিজের ব্যর্থতাকে তুলনা করে কষ্ট পেতে থাকি। তাই প্রথমে অন্যের সাথে নিজের তুলনা করা বন্ধ করতে হবে।

জীবনকে প্রতিযোগিতা হিসেবে নিবেন না

আমাদের অনেকের মধ্যে সবসময় একটি ধারণা থাকে যে “আমাকে সব সময় সবার আগে থাকতে হবে।“ সত্যি বলতে সব সময় অন্যদের চাইতে এগিয়ে থাকা সম্ভব না। কারো লাইফই পুরোপুরি পারফেক্ট না। জীবনে সাফল্য ও ব্যর্থতা একে অপরের পরিপূরক। তাই অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা না করে নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে ভালো কিছু করবার এবং নিজের গোল অ্যাচিভ করবার।

সবসময় পজিটিভ থাকুন

অন্যের সফলতা দেখলে অনেকেই নিজেকে ব্যর্থ মনে করে এবং নিজের লাইফের কোনো পজিটিভিটি তাদের চোখেই পড়ে না। হিংসাত্মক মনোভাব দূর করে যেকোনো পরিস্থিতিতে পজিটিভ থাকার জন্য আমরা লাইফের যেসব জায়গায় সফল হয়েছি সেগুলো নিয়ে চিন্তা করতে হবে। সেই সাথে আপনার যে দক্ষতাগুলো রয়েছে সেগুলোও বিবেচনা করতে হবে। নিশ্চয়ই এমন অনেক কাজ আছে যে আপনি খুব ভালো করতে পারেন। এভাবে পজিটিভ থিংকিং এর মাধ্যমে আপনার মনের নেগেটিভ ফিলিংসগুলো আপনি সরিয়ে ফেলতে পারেন।

নিজের লাইফের গোল সেট করুন
নিজের লাইফের গোল সেট করুন

হিংসাত্মক মনোভাব কমাতে অন্যের কাজের উপর ফোকাস না করে আগে নিজের একটি নির্দিষ্ট গোল সেট করুন। আজ থেকে কয়েক বছর পর আপনি নিজেকে যেখানে দেখতে চান সেখানে যাবার জন্য আপনার কেমন ধরনের স্কিল প্রয়োজন তা নিয়ে আগে কাজ করতে হবে। নিজের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা নোটপ্যাডে লিখে ফেলুন এবং বাস্তবায়নের চেষ্টা করুন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং নিজেকে নিয়ে ইনসিকিউরিটি কমে আসবে।

অন্যের সাকসেস সেলিব্রেট করুন

একটা বিষয় সবসময় মাথায় রাখবেন। আপনার বন্ধুর সাফল্য কিংবা আপনার আশেপাশের কারো জীবনে ঘটে যাওয়া ভালো ঘটনা আপনার জীবনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাই আপনার আশেপাশের কেউ যদি ভালো কাজ করে এবং ভালোভাবে এগিয়ে যায়, তাহলে তাকে শুভেচ্ছা জানান। অন্যের সফলতা থেকে আপনি অনুপ্রেরণা নিতে পারেন, তবে কখনোই জেলাস ফিল করবেন না।

নিজের জীবনের লক্ষ্য সেট করুন
নিজের অগ্রগতি এড়িয়ে যাবেন না

নিজের সাথে নিজের তুলনা করুন। কারণ এর মাধ্যমে আপনি নিজের অগ্রগতি বুঝতে পারবেন। একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, বছর দুয়েক আগেও আপনি যে কাজ পারতেন না এখন হয়তো সে কাজ খুব দক্ষতার সাথে পারছেন। আবার গত কয়েক বছরেও আপনার জীবনে অবশ্যই কিছু পজিটিভ চেঞ্জ এসেছে। এভাবে নিজের সাথে নিজের তুলনা করলে দেখবেন আপনি অনেক ধরনের কঠিন কাজ করেই এবং অনেক বাধা বিপত্তি পার করেই আজকে এই জায়গায় এসে দাঁড়াতে পেরেছেন। এভাবে চিন্তা করলে দেখবেন জেলাসি অনেকটাই কমে এসেছে।

পরিশেষে মনে রাখবেন, কারো প্রতি হিংসাত্মক মনোভাব কিংবা যেকোনো ধরনের নেগেটিভ ফিলিংস দিনশেষে আপনারই ক্ষতি করবে। এর ফলে আপনার নিজের প্রতি হীনমন্যতা তৈরি হয়ে আত্মবিশ্বাস কমে আসবে এবং আপনি চাইলেও হয়তো তখন আর সফল হতে পারবেন না। আপনি যদি মনে করেন আপনার এই অনুভূতিগুলো আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাহলে অবশ্যই এক্সপার্ট এর সাহায্য নিতে হবে৷

ছবিঃ সাটারস্টক

সম্পর্কিত লেখা

অফিস পলিটিক্স | কী, কেন হয়, প্রভাব ও সুরক্ষায় কিছু টিপস!
অফিস লাইফ

অফিস পলিটিক্স | কী, কেন হয়, প্রভাব ও সুরক্ষায় কিছু টিপস!

পলিটিক্স এর বাংলা হচ্ছে রাজনীতি। বাংলাদেশে পলিটিক্স শব্দটি শুনেন নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া খুবই মুশকিল। আগেরকার দিনে এদেশে পলিটিক্স বলতে শুধু ভিলেজ পলিটি...

অন্যের সমালোচনা নয়, আত্মসমালোচনাই বুদ্ধিমানের কাজ!
লাইফ স্টাইল

অন্যের সমালোচনা নয়, আত্মসমালোচনাই বুদ্ধিমানের কাজ!

"জানেন ভাবী, পাশের ফ্লাটের রুমকিকে নাকি আজ দেখতে এসেছিল। ছেলে সরকারি জব করে। বিয়ের কথা নাকি ফাইনাল। আমি বুঝি না ভাবি, কি দেখে ওই মেয়েকে পছন্দ করলো। দ...

অন্যদের মতামত প্রাধান্য দিয়ে নিজের শান্তি নষ্ট করছেন না তো?
লাইফ স্টাইল

অন্যদের মতামত প্রাধান্য দিয়ে নিজের শান্তি নষ্ট করছেন না তো?

কোনো কাজ করার আগে কাজটি নিয়ে চিন্তা করার চাইতে অন্যেরা কী মনে বলবে তা নিয়ে অনেক স্ট্রেস কাজ করে। আসলে আমরা বেশিরভাগই চারপাশের মানুষের কথাকে একটু বেশিই...

আরও পড়ুন

অফিস এটিকেট | প্রত্যেক ব্যক্তির মেনে চলা উচিত এই বিষয়গুলো
অফিস লাইফ

অফিস এটিকেট | প্রত্যেক ব্যক্তির মেনে চলা উচিত এই বিষয়গুলো

'এটিকেট' টার্ম টি অনেকের কাছেই নতুন, কিন্তু এটি মোটেও অজানা কোনো টার্ম নয়। এটিকেট এর বাংলা অর্থ হচ্ছে শিষ্টাচার। সঠিক শিষ্টাচার আমাদের জীবনের সকল ক্ষে...

মায়ের যত্ন | বাচ্চা হওয়ার পর সেলফকেয়ার কিভাবে করবেন?
মা ও শিশু

মায়ের যত্ন | বাচ্চা হওয়ার পর সেলফকেয়ার কিভাবে করবেন?

মা হওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিগুলোর মধ্যে একটি। এই মাতৃত্বের জন্য একজন নারীকে দীর্ঘ ১০ মাস এক নাজুক শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে...

শিশুর মাঝে পজিটিভ ইমেজ তৈরিতে বাবা-মায়ের কর্তব্যগুলো কি জানেন?
মা ও শিশু

শিশুর মাঝে পজিটিভ ইমেজ তৈরিতে বাবা-মায়ের কর্তব্যগুলো কি জানেন?

বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীতে চরম অস্থির এক সময় পার করছে বিশ্ববাসী। প্রতিদিন বাড়ছে জনসংখ্যা। বাড়তি জনসংখ্যার বাসস্থানের জন্য ছাড় দিতে হচ্ছে খেলার মাঠ, পর্...

আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুন
লাইফ স্টাইল

আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুন

আত্মবিশ্বাস মানে হল নিজের প্রতি বিশ্বাস। নিজের যোগ্যতার উপর বিশ্বাস। নিজেকে অন্যের কাছে তুলে ধরার প্রেরণা। স্বাধীনতা, স্বকীয়তা, উৎসাহ, আবেগ নিয়ন্ত্র...

কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার কিছু কৌশল
অফিস লাইফ

কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার কিছু কৌশল

আত্মবিশ্বাস শব্দটি সাধারণত ব্যবহার করা হয় একজন মানুষের জীবনে নিজস্ব মতামত, সামর্থ্য এবং শক্তি সম্পর্কে নিজের সুচিন্তিত আস্থা বোঝাতে। মানুষের জীবনে আত্...

সহজ ও সুন্দর জীবনের মূল মন্ত্র কী?
লাইফ স্টাইল

সহজ ও সুন্দর জীবনের মূল মন্ত্র কী?

আচ্ছা কখনও কি ভেবে দেখেছেন আপনার জীবনটা এখন যেমন আছে তা আরও অনেক বেশি সুন্দর হতে পারত অথবা হতে পারে?আর আপনি কি জানেন আপনার ভালো থাকাটা আপনার উপরই নির্...

…