অন্যদের মতামত প্রাধান্য দিয়ে নিজের শান্তি নষ্ট করছেন না তো?

নিগার বর্ষা · Feb 07, 2024 · 1 min read

অন্যদের মতামত প্রাধান্য দিয়ে নিজের শান্তি নষ্ট করছেন না তো?

কোনো কাজ করার আগে কাজটি নিয়ে চিন্তা করার চাইতে অন্যেরা কী মনে বলবে তা নিয়ে অনেক স্ট্রেস কাজ করে। আসলে আমরা বেশিরভাগই চারপাশের মানুষের কথাকে একটু বেশিই গুরুত্ব দিয়ে ফেলি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন যে অন্যদের মতামত নিয়ে আমরা কেন এত চিন্তা করি? এতে কিন্তু দিনশেষে আমাদের মনের শান্তিই নষ্ট হয়।  নিজের লক্ষ্যপূরণে এগিয়ে যেতে এবং মানসিকভাবে ভালো থাকতে “লোকে কী বলবে”- এই চিন্তা বাদ দিতে হবে। আজকের ফিচারে আমরা জানবো কীভাবে অন্যদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে পারবেন সে সম্পর্কে।

কীভাবে অন্যদের মতামত প্রাধান্য না দিয়ে এগিয়ে যাবেন?

বিখ্যাত দার্শনিক লাও চাজ বলেছেন, “লোকে কী বলবে এই চিন্তা যদি সবসময় করো, তুমি সারাজীবন তাদের কাছে বন্দী হয়ে থাকবে”। সত্যিই তাই। আপনি যত বেশি অন্যদের প্রাধান্য দিবেন, আপনার চলার পথ তত কঠিন হয়ে যাবে। চলুন কীভাবে এ অভ্যাসটি থেকে বের হওয়া যায় তা জেনে আসি।

১। মানুষের সহজাত প্রকৃতি

অন্যকে নিয়ে কথা বলা মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য।  আজকে তারা আপনাকে নিয়ে কথা বলছে, কাল অন্য কাউকে নিয়ে বলবে। তাই লোকে কী বলবে চিন্তা করে নিজের মনকে ছোট করবেন না। আপনি যদি নিজের মত কাজ করে যান, তাহলে এক সময় তারাই আপনার প্রশংসা করবে। সবচেয়ে বড় কথা কী জানেন? আজকে যারা আপনাকে নিয়ে কথা বলছে, দুইদিন পর সেটা নিজেরাই ভুলে যাবে। আধুনিক এই যুগে মানুষের এত সময় নেই যে একটা বিষয় নিয়ে পড়ে থাকবে। তাই নিজের মত এগিয়ে যান।

২। সবাইকে হ্যাপি করতে পারবেন না

আমরা অন্যকে নিয়ে কেন এত ভাবি? কারণ আমরা সবাইকে খুশি করতে চাই। আমরা সবাইকে নিজেদের বন্ধু হিসেবে পেতে চাই। আর এটাই আমাদের বড় ভুল। কেননা একজন মানুষের পক্ষে সবাইকে হ্যাপি করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে খুশি করতে যেয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলার কোনো যুক্তি নেই। তাই নিজের ব্যাপারে অন্যদের মতামত কী তা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে যারা আপনার কাছের মানুষ অথবা যারা আপনার কাজের মূল্যায়ন করবে তাদেরকে খুশি করার চেষ্টা করুন।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মাঝেমধ্যে ব্রেক নেওয়া যেতে পারে
৩। অনলাইন জগৎ থেকে ব্রেক নিন

আমরা সবচেয়ে বেশি শো অফ কোথায় করি, বলুন তো? সবচেয়ে বেশি সমালোচনা কোন মাধ্যমে হয়ে থাকে? সোশ্যাল মিডিয়া! আপনি একটা ছবি বা কোনো মনের কথা শেয়ার করলেই সবাই সেটা নিয়ে সমালোচনায় ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তাই মাঝে মাঝে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছুদিন দূরে থাকুন। এতে করে অনেক নেগেটিভ চিন্তা থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

৪। খুঁজে বের করুন কী বেশি গুরুত্বপূর্ণ

আপনার কাছে কোন বিষয়টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? “অন্যদের মতামত” নাকি “ নিজের কাজ”? আপনি যদি নিজের উপর আস্থা রাখতে পারেন, তবে কখনোই বাকিদের রিঅ্যাকশনের ব্যাপারে চিন্তা করবেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি সাফল্য অর্জন করতে পারছেন, ততক্ষণ তারা বলবেই। তাই নিজের কাজটাকে বেশি গুরুত্ব দিন।

আগে নিজেকে জানুন
৫। নিজেকে জানুন

মানুষ নিজেকে সবচেয়ে ভালো জানে। নিজের কাজ করার ক্ষমতা ও দক্ষতা সম্পর্কে জানুন। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন যে আপনি পারবেন। নিজের ব্যাপারে যদি আত্মবিশ্বাস থাকে, তাহলে কোনো অযৌক্তিক কথা বা চিন্তা আপনাকে পেছাতে পারবে না। তাই মানুষ যতই বলুক না কেন আপনি পারবেন না, নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে আপনি ভালোভাবে কাজটি শেষ করতে পারবেন।

৬। নেগেটিভ আলোচনা থেকে দূরে থাকুন

আপনার চারপাশে নেগেটিভ ও পজেটিভ দুই ধরনের মানুষ পাবেন। নেগেটিভ মানুষ সারাক্ষণ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করে, অন্যের সমালোচনা করে এবং সমস্যা নিয়ে কথা বলে। এই ধরনের মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলুন। কারণ তারা আপনার জীবনে শুধু নেগেটিভিটি তৈরি করবে এবং আপনার কোনো ভালো কাজকে অ্যাপ্রিশিয়েট করবে না।

অন্যদের মতামত প্রাধান্য না দিয়ে জার্নালিং করুন
৭। জার্নাল লিখুন

জার্নাল লেখার অভ্যাস তৈরি করুন, এটা আপনাকে “লোকে কী বলবে” এই চিন্তা থেকে বের হতে অনেক সাহায্য করবে। আপনি যখনই কোনো নেগেটিভ কথার সম্মুখীন হবেন, তখন জার্নালে নিজের পজেটিভ দিকগুলো লিখুন। এর পাশাপাশি আপনার সাফল্যগুলো লিখুন এবং অতীতে কোনো সমস্যা কীভাবে সমাধান করেছিলেন সেটাও লিখুন। এই জার্নাল আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।

পরিশেষে বলতে চাই, বিভিন্ন ধরনের মানুষদের নিয়ে আমাদের এই সমাজ। এখানে কেউ ভালো, আবার কেউ খারাপ। সবার কথা চিন্তা করলে আপনি জীবনে এগিয়ে যেতে পারবেন না। তাই অন্যদের মতামত গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কাজটি আত্মবিশ্বাসের সাথে করুন, অবশ্যই সফলতা আসবে। ছবিঃ সাটারস্টক  

সম্পর্কিত লেখা

বুলেট জার্নালিং | নিজেকে অধ্যাবসায়ী ও দক্ষ করে তোলার সেরা উপায়
লাইফ স্টাইল

বুলেট জার্নালিং | নিজেকে অধ্যাবসায়ী ও দক্ষ করে তোলার সেরা উপায়

কেমন হয় যদি মাত্র ১০ মিনিটের একটি ছোট অভ্যাস আপনার জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে? বুলেট জার্নালিংয়ের নাম হয়তো অনেকেই শোনেন নি। প্রতিদিনের কাজ...

আপনি কি জাজমেন্টাল?
লাইফ স্টাইল

আপনি কি জাজমেন্টাল?

একটা জিনিস আজকাল প্রায়ই দেখা যায় যে, প্রতিটা জিনিসেই আমরা নিজেদের একটা মতামত দিতে পছন্দ করি। কাজটা যে খুব কনশাস-ভাবে করা হয় তাও কিন্তু না। এটা কেমন যে...

সহজ ও সুন্দর জীবনের মূল মন্ত্র কী?
লাইফ স্টাইল

সহজ ও সুন্দর জীবনের মূল মন্ত্র কী?

আচ্ছা কখনও কি ভেবে দেখেছেন আপনার জীবনটা এখন যেমন আছে তা আরও অনেক বেশি সুন্দর হতে পারত অথবা হতে পারে?আর আপনি কি জানেন আপনার ভালো থাকাটা আপনার উপরই নির্...

চাকরি খুঁজছেন? আপনি কতটুকু প্রস্তুত? (পর্ব-২): কীভাবে CV বানাবেন
অফিস লাইফ

চাকরি খুঁজছেন? আপনি কতটুকু প্রস্তুত? (পর্ব-২): কীভাবে CV বানাবেন

বন্ধুরা, গত পর্বে আলোচনা করেছিলাম চাকরি খোঁজার ব্যাপারে এমন কিছু বিষয়ে যা আপনাদেরঅনেকেরই ভাল লেগেছে। আপনাদের সাড়া পেয়ে অনুপ্রাণিত বোধ করছি। আজ লিখ...

আরও পড়ুন

কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার কিছু কৌশল
অফিস লাইফ

কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার কিছু কৌশল

আত্মবিশ্বাস শব্দটি সাধারণত ব্যবহার করা হয় একজন মানুষের জীবনে নিজস্ব মতামত, সামর্থ্য এবং শক্তি সম্পর্কে নিজের সুচিন্তিত আস্থা বোঝাতে। মানুষের জীবনে আত্...

হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ন্ত্রণ করে পজিটিভ থাকার উপায়
লাইফ স্টাইল

হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ন্ত্রণ করে পজিটিভ থাকার উপায়

দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন ধরনের ফিলিংসের মধ্য দিয়ে যাই। জীবনে চলার পথে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনায় আমরা প্রকাশ করি রাগ,অভিমান, দুঃখ কিংবা আনন্দ। কিন্...

পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গী | যে ৫টি কাজ কখনো করবেন না
লাইফ স্টাইল

পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গী | যে ৫টি কাজ কখনো করবেন না

আমাদের জীবনে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর কথা বলে শেষ করা যাবে না। প্রায় সব ধরনের সমস্যাই পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গী থাকলে মোকাবেলা করা যায়। যেকোন বিষয়ে যার কাছেই উপ...

যত্নে বেড়ে উঠুক সোনামণি
মা ও শিশু

যত্নে বেড়ে উঠুক সোনামণি

গর্ভধারণ থেকে শুরু করে ১৮ বছর বয়সের নিচের সবাইকে শিশু কিশোর বলা হয়। এর ভেতর ১ বছরের নিচে যাদের বয়স তারা ইনফ্যান্ট, ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত টোডলার বেবি...

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা কম থাকার ৯টি লক্ষণ
সম্পর্ক

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা কম থাকার ৯টি লক্ষণ

তিথির খুব কাছের বান্ধবী মিতু। ভার্সিটি বন্ধ হবার পরে দিনের মধ্যে বেশ কয়েকবার তাদের ফোনে কথা হয় । তিথির সাথে ফোনে কথা বলার পর প্রায়শই তার মন খারাপ হয়ে...

বিষণ্ণতা আর দুশ্চিন্তা আপনার জীবনে কতটুকু ক্ষতি করতে পারে?
সুস্থতা

বিষণ্ণতা আর দুশ্চিন্তা আপনার জীবনে কতটুকু ক্ষতি করতে পারে?

কপালে হালকা ভাঁজ, কখনো বা গালে হাত কিংবা উদাস মনে একদিকে তাকিয়ে থাকা; একরকম মূহুর্ত আমাদের প্রত্যেকের জীবনে খুব কমন, তাই না? কেমন যেন চিন্তার জগতে প্র...

…