ফুড ক্রেভিং হচ্ছে বারবার! কীভাবে কন্ট্রোল করবেন এই অভ্যাস?

নাহিন আশরাফ · Sep 20, 2023 · 1 min read

ফুড ক্রেভিং হচ্ছে বারবার! কীভাবে কন্ট্রোল করবেন এই অভ্যাস?

আমরা সারাদিন নানা ধরনের কাজের সাথে যুক্ত থাকি, সেই কাজের জন্য আমাদের দেহের প্রয়োজন শক্তি। সেই শক্তি আমাদের দেহ খাবার থেকে পায়। তাই যখনই দেহের খাবারের প্রয়োজন হয় আমরা ক্ষুধা অনুভব করি এবং খাবার খাই। এটি দেহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু ফুড ক্রেভিং ক্ষুধা থেকে ভিন্ন। এই খাবারের ক্রেভিং আসলে কী, এর কারণ এবং কীভাবে কন্ট্রোল করবেন তাই জানবো আজকের লেখায়।

ফুড ক্রেভিং কী?

মাঝে মাঝে কোনো একটা নিদিষ্ট খাবার খাওয়ার জন্য তীব্র যে ইচ্ছে হয় এবং সেই খাবার টা না খাওয়া পর্যন্ত মন কিছুতেই শান্ত হতে চায় না। এটাইকেই বলা হয় ফুড ক্রেভিং। অনেকেরই ঘন ঘন নানা ধরনের খাবারের ক্রেভিং হয়, ফলস্বরূপ দেহের ওজন বাড়তে থাকে। কারণ ক্রেভিং এর জন্য গ্রহণ করা খাবার দেহের জন্য প্রয়োজনীয় না তাই সেই খাবার চর্বি আকারে শরীরে জমতে থাকে। তাই এই ক্রেভিং কন্ট্রোলে নিয়ে আসা অনেক বেশি জরুরি।

প্রেগনেন্সি এর সময় ফুড ক্রেভিং হতে পারে

বারবার এই ক্রেভিং কেন হয়?

১) দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণ সুষম খাদ্য না পেলে ঘনঘন ক্রেভিং হতে পারে৷ অনেকেই ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকেন, তখন খাবারের ক্রেভিং বেড়ে যায়।

২) হরমোনাল কারণে যেমন পিরিয়ড ও প্রেগনেন্সির সময় ঘন ঘন খাবারের ক্রেভিং হয়। লেপটিন ও সেরোটোনিন হরমোনের জন্য খাবারের ক্রেভিং হয়ে থাকে।

৩) স্ট্রেসে থাকলে খাবারের ক্রেভিং বেড়ে যায় কারণ তখন কর্টিসল হরমোন রিলিজ হয় যা বার বার ক্ষুধা অনুভব করায়৷ এছাড়া অনেকের খাবার খেলে স্ট্রেস কমে তাই বার বার খাওয়ার ইচ্ছে হয়।

৪) ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হলে বারবার খাবারের ইচ্ছের প্রবণতা বেড়ে যায়। কারণ তখন শরীরের ইনসুলিন সঠিক ভাবে কাজ করে না, ইনসুলিন আমাদের শরীরের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

এই অভ্যাস কমানোর উপায় কী হতে পারে

প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার খান

দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার খেতে হবে। লাইফস্টাইলের উপর ভিত্তি করে সবার খাবারের চাহিদা ভিন্ন। প্রতিদিন দেহের প্রয়োজন যতটুকু খাবার ততটুকু গ্রহণ করলে ফুড ক্রেভিং অনেক টা কমে যায়। অনেকে ডায়েটের ফলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকে ফলে একপর্যায়ে গিয়ে খাবারের ক্রেভিং হয় যা কন্ট্রোল করা কঠিন হয়ে যায়। তাই ডায়েট করলেও ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং খাদ্যতালিকায় যাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

ফুড ক্রেভিং বেশি হওয়ার মানে হরমোনাল ইস্যু
হরমোনাল ইস্যু আছে কিনা দেখে নিন

ফুড ক্রেভিং এর জন্য হরমোন দায়ী। তাই অতিরিক্ত ক্রেভিং হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে অবশ্যই জেনে নিতে হবে কোন হরমোনাল ইস্যু আছে কিনা। পিসিওএস( PCOS) কিংবা ডায়াবেটিস থাকলে তা কন্ট্রোলের জন্য হেলথি লাইফস্টাইল অনুসরণ করতে হবে ও হরমোনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।

পিপাসা ও ক্ষুধার মধ্যে পার্থক্য করুন

অনেক সময় আমরা পিপাসা ও ক্ষুধার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারিনা। তাই পিপাসা পেলেও অনেকে মনে করে ক্ষুধা পাচ্ছে৷ তাই কোনো খাবারের ক্রেভিং হলে সাথে সাথে এক গ্লাস পানি খেয়ে ফলতে হবে সেক্ষেত্রে অনেক সময় ক্রেভিং কমে যায়।

মানসিক চাপ মুক্ত থাকুন

মানসিক চাপ মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। মানসিক চাপ কমাতে ইয়োগা কিংবা মেডিটেশন করা যেতে পারে। মন অস্থির ও অশান্ত থাকার ফলে ওভার ইটিং এর প্রবনতা বেড়ে যায়। এছাড়া প্রতিদিন ৪০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করতে হবে, হাঁটার ফলে শরীর থেকে ডোপামিন রিলিজ হয় এতে মুড ভালো থাকে।

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেছে নিন

বার বার ক্রেভিং হলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের জায়গায় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেছে নিতে হবে। জাঙ্ক ফুড ও প্রসেসড ফুড এমনিতেই বার বার ক্রেভিং এর প্রবনতা বাড়ায় তাই এইসব খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। ক্রেভিং হলে খেজুর, বাদাম, ডিম, দুধ, ওটস এ জাতীয় খাবার খেতে হবে।

অবেলায় খাবারের ক্রেভিং হলে অপেক্ষা করুন

অনেক কোনো কারণ ছাড়াই সারাক্ষণ কিছু না কিছু খেতে ইচ্ছে করে সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে এটি পুরোপুরি মানসিক। যেকোনো খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা সাধারণত ৩০ থেকে ২০ মিনিট স্থায়ী হয়। তাই অবেলা খাবারের ক্রেভিং হলেই খাবার খোঁজা শুরু না করে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এতে ধীরে ধীরে ক্রেভিং এর মাত্রা কমে আসে। খাবার থেকে মনোযোগ দূর করার জন্য গান শোনা যেতে পারে।

ক্রেভিং কমাতে রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করুন
রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করুন

রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করতে হবে। কারন অধিকাংশ ক্ষেত্রে যেকোনো খাবারের ক্রেভিং লেইট নাইটে হয়ে থাকে। তাই তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

অতিরিক্ত রেস্ট্রিকশন পরিহার করুন

নিজেকে অতিরিক্ত রেস্ট্রিকশন এর মধ্যে নিয়ে আসা যাবে না, এতে আরো বেশি সমস্যা হতে পারে। তাই নিজের প্রিয় খাবার পরিমান বুঝে মাঝে মাঝে খাওয়া যেতে পারে। এতে করে যখন তখন তীব্র ক্রেভিং হবে না। হেলদি থাকতে হলে অবশ্যই রুটিন মাফিক খাওয়া দাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

মনে রাখতে হবে, ফুড ক্রেভিং কোনো খারাপ ব্যাপার না, মাঝের মধ্যে যে কোনো ধরনের খাবারের ইচ্ছে হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। তবে সমস্যা তখনই হয় যখন ঘন ঘন ও কন্ট্রোলের বাইরে ক্রেভিং হয়। অতিরিক্ত ফুড ক্রেভিং কখনোই হেলথের জন্য ভালো না। তাই লাইফস্টাইলে কিছু চেঞ্জ এনে এবং ইচ্ছা শক্তির দ্বারা ফুড ক্রেভিং কন্ট্রোলে নিয়ে আসা সম্ভব।

ছবিঃ সাটারস্টক।

সম্পর্কিত লেখা

মিড নাইট ক্রেভিং | কোন খাবারগুলো ঘুমের রুটিনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে?
লাইফ স্টাইল

মিড নাইট ক্রেভিং | কোন খাবারগুলো ঘুমের রুটিনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে?

রাতে ভালো ঘুম না হলে সারাদিনের কাজের এনার্জি কীভাবে পাবেন, বলুন তো? নিজের অজান্তেই কিছু অভ্যাসের কারণে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। আনহেলদি লাইফস্টাইল এর পে...

রামাদান হেলথ কেয়ার ১ | ১০টি টিপস মেনে থাকুন সুস্থ
সুস্থতা

রামাদান হেলথ কেয়ার ১ | ১০টি টিপস মেনে থাকুন সুস্থ

রমজানে ইফতারে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখাটা একটু দায়। অনেকে ভাবেন যে, রোজা রেখে সুন্দরভাবে চোখের পলকে ওজন কমিয়ে ফেলবেন। কিন্তু “রোজা রাখলে ওজ...

ফুড পয়জনিং বা ঘন ঘন পেট খারাপ হলে কী করবেন?
সুস্থতা

ফুড পয়জনিং বা ঘন ঘন পেট খারাপ হলে কী করবেন?

আমরা অনেকেই মনে করি বমি হলে বা পেট ব্যথা করলেই ফুড পয়জনিং হয়েছে। আসলে বিষয়টি এমন নয়। পেট ব্যথার অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। ফুড পয়জনিং মূলত দূষিত খাবা...

সোনামনির খাবার নিয়ে বায়না, আর না আর না!
মা ও শিশু

সোনামনির খাবার নিয়ে বায়না, আর না আর না!

বাচ্চাকে খাবার খাওয়ানো একটি কঠিন কাজ বলেই জানি আমরা সবাই। পৃথিবীতে মনে হয় এমন কোন মা নেই যিনি তার বাচ্চাকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে সমস্যায় পড়েননি। সম...

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ফাস্ট ফুড কেন এড়িয়ে চলা প্রয়োজন?
সুস্থতা

স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ফাস্ট ফুড কেন এড়িয়ে চলা প্রয়োজন?

বন্ধুদের সাথে আড্ডা হোক অথবা কাছের মানুষদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া- পছন্দের রেস্টুরেন্টে যেয়ে ফাস্ট ফুড অর্ডার দিয়ে খাবার খেয়ে সময় কাটানোতেই এখন সবাই আনন্দ...

শিশুর প্রথম সলিড খাবার কীভাবে এবং কী দিয়ে শুরু করবেন?
মা ও শিশু

শিশুর প্রথম সলিড খাবার কীভাবে এবং কী দিয়ে শুরু করবেন?

বাচ্চার বয়স ৬ মাস+ হলেই তাকে বাড়তি খাবার দিতে হয়। ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। নতুন মায়েরা খুব স্বাভাবিকভাবেই একটু চিন্তায় থাক...

বিভিন্ন বয়সে শিশুর খাবার তালিকা কেমন হবে?
মা ও শিশু

বিভিন্ন বয়সে শিশুর খাবার তালিকা কেমন হবে?

প্রত্যেকটা শিশুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য দরকার পর্যাপ্ত পুষ্টি। জন্ম থেকে শুরু করে প্রতি পর্যায়ে বাচ্চাদের খাবারের চাহিদা পরিবর্তন হতে থাকে। জন্মের পর মুহূর...

হেলদি স্কিনের জন্য ফুড হ্যাবিটে কী ধরনের চেঞ্জ আনবেন?
বিউটি টিপস

হেলদি স্কিনের জন্য ফুড হ্যাবিটে কী ধরনের চেঞ্জ আনবেন?

আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ হচ্ছে ত্বক। ত্বক আমাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, বাইরের পরিবেশের সাথে একটা প্রতিরক্ষা বেষ্টনী তৈরি করে এবং আমাদের...

ভালো খাদ্যাভ্যাস গড়ার ১৬টি টিপস!
সুস্থতা

ভালো খাদ্যাভ্যাস গড়ার ১৬টি টিপস!

যে অভ্যাসগুলো সামাজিক ও স্বাস্থ্য সম্মত তাই ভালো অভ্যাস। জীবনধারণের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে ভালো অভ্যাস প্রয়োজন। এই ভালো অভ্যাস গুলোর মধ্যে ১ টি হল ভালো...

জানেন কি বয়স ভেদে আপনার দৈনিক কত ক্যালরি গ্রহণ করা প্রয়োজন?
সুস্থতা

জানেন কি বয়স ভেদে আপনার দৈনিক কত ক্যালরি গ্রহণ করা প্রয়োজন?

আমরা যখনি ক্যালরির কথা চিন্তা করি বেশিরভাগ মানুষই মনে করি কোন খাবারে কত বেশি ফ্যাট আছে। ক্যালরি মানেই যেন ওজন বৃদ্ধি। কিন্তু ডাক্তারি ভাষায় এটি হল আমা...

…