স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ফাস্ট ফুড কেন এড়িয়ে চলা প্রয়োজন?

ডাঃ সেঁজুতি · Oct 10, 2022 · 1 min read

স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ফাস্ট ফুড কেন এড়িয়ে চলা প্রয়োজন?

বন্ধুদের সাথে আড্ডা হোক অথবা কাছের মানুষদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া- পছন্দের রেস্টুরেন্টে যেয়ে ফাস্ট ফুড অর্ডার দিয়ে খাবার খেয়ে সময় কাটানোতেই এখন সবাই আনন্দ পায়। আর এই তালিকায় শুরুতেই থাকে বার্গার, হট ডগ, স্যান্ডউইচ, পরোটা, পিৎজা, চিকেন গ্রিল, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই, সফট ড্রিংকস, শিঙাড়া, সমুচা, চকলেট ইত্যাদি। এই খাবারগুলো ছোট বড় সবারই পছন্দের তালিকায় প্রথম স্থান দখল করে আছে। কিন্তু খাবারগুলো যতটা মজাদার, ঠিক ততটাই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অনেকের ক্ষেত্রেই এই খাবারগুলো খাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। আর এই প্রবণতা থেকেই শরীরের উপর পড়ে নানা নেতিবাচক প্রভাব, বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ফাস্ট ফুড কেন এড়িয়ে চলা প্রয়োজন জানাবো আজকের আর্টিকেলে।

ফাস্ট ফুড কী?  

ফাস্ট ফুড (Fast Food) অর্থ যে খাবারগুলো দ্রুত তৈরি করা যায়। সাধারণত বাড়ির অন্যান্য খাবারের তুলনায় এ ধরনের খাবারগুলো তৈরি করতে সময় কম লাগে। রেস্টুরেন্ট, হোটেল বা ক্যাফেতে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রয়ের জন্য ফাস্ট ফুড বানানো হয়। বর্তমানে ঘরে বসে অনলাইনে অর্ডার করলেই খাবার চলে আসে হাতে। এখন আমাদের সবাইকেই সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে হয়। আর আধুনিক এই জীবনযাপনে দ্রুত, সহজ, সস্তা ও মুখরোচক হওয়ায় ফাস্ট ফুডও বেশ শক্তভাবেই শিকড় গেড়ে নিয়েছে। তবে ফাস্ট খাবারে ফাস্ট অর্থাৎ দ্রুত ক্ষুধা মিটলেও অতিরিক্ত তেল দিয়ে বানানো এ ধরনের খাবারগুলো মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।

ফাস্ট ফুড খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি

এ ধরনের খাবারে কেন আসক্তি তৈরি হয়?

জাঙ্ক ফুড বা ফাস্ট ফুড তৈরিতে ব্যবহার করা হয় প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট, চিনি, লবণ ও আজিনোমোটো (মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট) নামে এক ধরনের উপাদান। এই উপাদানগুলোর কারণে খাওয়ার পর আমাদের মস্তিষ্ক ফাস্ট ফুডে আসক্ত হয়ে পড়ে। অতি মাত্রায় ফাস্ট ফুড খেলে ডোপামিন হরমোন (শরীরে তৃপ্তি সৃষ্টিকারী হরমোন) নির্গত হয়। যার কারণে বারবার এ ধরনের খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে।

ফাস্ট ফুডে কী কী স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে?

এ ধরনের খাবারগুলো বেশি সুস্বাদু হওয়ার কারণ হচ্ছে এসব খাবারে প্রচুর সুগার ও ফ্যাট (শর্করা ও চর্বি) থাকে। সবচেয়ে কম থাকে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি (যেমন- ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার)। অল্প সময়ে হাতে পৌঁছায় বলে মুখরোচক এসব খাবারের চাহিদা বেশি থাকে। নিয়মিত ফাস্ট ফুড খেলে যে ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে-

  • ফাস্ট ফুডে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকায় মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন হতে পারে
  • ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়
  • বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়ায়
  • দাঁতের ফাঁকে এসব খাবার আটকে থেকে ক্যাভিটির সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে
  • এসব খাবারে থাকা ফ্যাট এলডিএল কোলেস্টেরলের (ব্যাড কোলেস্টেরল) মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে
  • এ ধরনের খাবারে থাকা উচ্চ মাত্রার লবণ, টেস্টিং সল্ট ও কৃত্রিম রঙ উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়
  • ওজন বেড়ে যায়, সেই সাথে বাড়ে ওবেসিটির সম্ভাবনাও
  • হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়
  • ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়
  • ফাস্ট ফুডে থাকা ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদান শরীরে প্রবেশ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কিডনিও
ওজন বৃদ্ধি

নিয়মিত ফাস্ট ফুড খাওয়ায় কত ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে তার কিছুটা আমরা জানলাম। আমরা যতটুকু ধারণা করি, এই খাবার নিয়মিত খাওয়ার ফল আসলে তার চেয়েও ভয়াবহ। শুধু বড়রা নয়, ছোটদের জন্যও সমানভাবে এই খাবারগুলো ক্ষতিকর। আমরা সময় বাঁচাতে শিশুদের হাতে এ খাবারগুলো তুলে দিচ্ছি। সত্যি বলতে সময় কিছুটা বাঁচলেও আদতে আমরা আসলে তাদের বেশ ক্ষতিই করছি। উপরে আলোচিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ফাস্ট ফুড যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ফাস্ট ফুড কীভাবে এড়িয়ে চলবেন?

আমাদের বিজি লাইফে ইজি সল্যুশন হওয়ায় দিন দিন ফাস্ট ফুডের চাহিদা বাড়ছে। তবে এর লাগাম টেনে না ধরলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে অসুস্থতা আরও বেশি জেঁকে ধরবে। তাই যতটা সম্ভব এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কীভাবে ফাস্ট ফুড এড়িয়ে হেলদি খাবার খাওয়া যায় সে বিষয়ে আপনাদের কিছু পরামর্শ দিচ্ছি-

১) বাইরে যাওয়ার আগে ব্যাগে অথবা বাড়িতে থাকলে ফ্রিজে কিছু ফল, টক দই বা বাদাম রাখতে পারেন। এতে ঘরে থাকলে বা বাইরে যাওয়ার পর ক্ষুধা লাগলে দোকান থেকে স্ন্যাকস বা ফাস্ট ফুড না কিনে এগুলোই খেতে পারেন। এতে ক্ষুধাও মিটবে, শরীর পুষ্টিও পাবে।

২) ব্যাগে সব সময় এক বোতল পানি ক্যারি করুন। এতে পিপাসা মেটাতে সফট বা এনার্জি ড্রিংকস কিনে খেতে হবে না।

৩) খাবার তালিকায় মুরগীর মাংস, ডিম, মাছ, চিজ, টক দই ও দুধের মতো প্রোটিন রাখার চেষ্টা করুন। এতে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকবে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে খাদ্য তালিকায় প্রোটিন রাখুন

৪) সকালের খাবারে যেন ফাইবার যুক্ত থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। এ ধরনের খাবারে পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকে। এতে ফাস্ট ফুড খাওয়ার প্রতি আগ্রহ কমে।

৫) টিভি বা কম্পিউটারের সামনে বসে অথবা ফোনে কথা বলার সময় স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে আনুন।

৬) শিশুদের স্কুলের টিফিনে ঘরে বানানো নাস্তা দিন।

ফাস্ট ফুডের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে কমবেশি আমরা জানলেও মেনে চলি খুব কম। ভাবি, একদিন খেলে কিছুই হবে না। এই ভাবনাটাই ধীরে ধীরে প্রতিদিনের তালিকায় যুক্ত হয়ে যায়। এক সময় এই ফাস্ট ফুড খাওয়ার নেশা থেকে বের হওয়া যায় না। সেই সাথে শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে নানা ধরনের অসুখ। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়া খুবই জরুরি। ফাস্ট ফুড যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন, সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।

  ছবিঃ সাজগোজ, সাটারস্টক

Products in this article

Dettol Pump Cool Handwash

Dettol Pump Cool Handwash

(0)
200ml
৳ 100.00

সম্পর্কিত লেখা

হবু মা | ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলা আবশ্যক কি?
মা ও শিশু

হবু মা | ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলা আবশ্যক কি?

নারীত্বের পূর্ণতা মাতৃত্বে। একজন নারী মা হবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন কৈশোর পেরুবার পর থেকে; কেউ সচেতনে, কেউ বা অবচেতনে। গর্ভধারণের পর থেকে নারীর শরীরে...

ব্রণের সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে? প্রতিদিনের যে কাজগুলো এর পেছনে দায়ী!
ত্বকের যত্ন

ব্রণের সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে? প্রতিদিনের যে কাজগুলো এর পেছনে দায়ী!

ঝলমলে সুন্দর একটা দিন। ঘুম থেকে উঠলেন, পর্দা সরিয়ে মুখে রোদের আলোটুকু স্পর্শ করালেন, ওয়াশরুমে গেলেন ফ্রেশ হতে। আয়নার দিকে তাকাতেই মন খারাপ হয়ে গেলো! ক...

ফুড পয়জনিং বা ঘন ঘন পেট খারাপ হলে কী করবেন?
সুস্থতা

ফুড পয়জনিং বা ঘন ঘন পেট খারাপ হলে কী করবেন?

আমরা অনেকেই মনে করি বমি হলে বা পেট ব্যথা করলেই ফুড পয়জনিং হয়েছে। আসলে বিষয়টি এমন নয়। পেট ব্যথার অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। ফুড পয়জনিং মূলত দূষিত খাবা...

লিভারের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডায়েট কেমন হওয়া উচিত?
স্বাস্থ্য

লিভারের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডায়েট কেমন হওয়া উচিত?

লিভার মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সুস্থ লিভার। আর লিভারকে বলা হয় শরীরের পাওয়ার হাউজ। লিভারের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত...

আরও পড়ুন

শিশুর ১৫টি নিরাপদ প্রথম ফিঙ্গার ফুড
মা ও শিশু

শিশুর ১৫টি নিরাপদ প্রথম ফিঙ্গার ফুড

শিশু জন্মগ্রহণের পরে প্রথম ৬ মাস শুধুই মায়ের বুকের দুধই তার জন্য আদর্শ ও একমাত্র খাবার। এ সময় অন্য কোনও খাবার এমনকি পানিও তার প্রয়োজন হয় না। মায়ের বুক...

শিশুর প্রথম সলিড খাবার কীভাবে এবং কী দিয়ে শুরু করবেন?
মা ও শিশু

শিশুর প্রথম সলিড খাবার কীভাবে এবং কী দিয়ে শুরু করবেন?

বাচ্চার বয়স ৬ মাস+ হলেই তাকে বাড়তি খাবার দিতে হয়। ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। নতুন মায়েরা খুব স্বাভাবিকভাবেই একটু চিন্তায় থাক...

ফুড ক্রেভিং হচ্ছে বারবার! কীভাবে কন্ট্রোল করবেন এই অভ্যাস?
লাইফ স্টাইল

ফুড ক্রেভিং হচ্ছে বারবার! কীভাবে কন্ট্রোল করবেন এই অভ্যাস?

আমরা সারাদিন নানা ধরনের কাজের সাথে যুক্ত থাকি, সেই কাজের জন্য আমাদের দেহের প্রয়োজন শক্তি। সেই শক্তি আমাদের দেহ খাবার থেকে পায়। তাই যখনই দেহের খাবারের...

মিড নাইট ক্রেভিং | কোন খাবারগুলো ঘুমের রুটিনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে?
লাইফ স্টাইল

মিড নাইট ক্রেভিং | কোন খাবারগুলো ঘুমের রুটিনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে?

রাতে ভালো ঘুম না হলে সারাদিনের কাজের এনার্জি কীভাবে পাবেন, বলুন তো? নিজের অজান্তেই কিছু অভ্যাসের কারণে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। আনহেলদি লাইফস্টাইল এর পে...

রক্তে ৩ ধরনের কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণ, ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জানেন?
সুস্থতা

রক্তে ৩ ধরনের কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণ, ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জানেন?

কোলেস্টেরল সম্পর্কে আমাদের সবারই কম বেশি ধারণা আছে। কিন্তু সঠিক ও স্বচ্ছ ধারনা অনেকেরই নেই। অনেকেই মনে করেন যারা বেশি স্বাস্থ্যবান, বেশি খাওয়া-দাওয়া...

হেলদি স্কিনের জন্য ফুড হ্যাবিটে কী ধরনের চেঞ্জ আনবেন?
বিউটি টিপস

হেলদি স্কিনের জন্য ফুড হ্যাবিটে কী ধরনের চেঞ্জ আনবেন?

আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ হচ্ছে ত্বক। ত্বক আমাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, বাইরের পরিবেশের সাথে একটা প্রতিরক্ষা বেষ্টনী তৈরি করে এবং আমাদের...

…