Being Eating Disorder | লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা

সাজগোজ উপ সম্পাদক · Nov 08, 2014 · 1 min read

Being Eating Disorder | লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা

Being Eating Disorder হলো এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক খাদ্যভাসের পরিবর্তন সম্পর্কিত সমস্যা। এর আগে আমরা আরও একটি Eating Disorder নিয়ে লিখেছিলাম । Being Eating Disorder এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি খাবার গ্রহণ করার পরেও পেট ভরে না। আমরা যখন খাওয়া শুরু করি তখন ২০ মিনিট পরে আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের কে সিগন্যাল দেয় খাবার বন্ধ করার জন্য। তখন আমরা টের পাই যে আমাদের পেট ভরে গিয়েছে। কিন্তু Being Eating Disorder এর ক্ষেত্রে আমাদের এই মস্তিষ্ক সঠিক ভাবে কোনো সিগন্যাল প্রদান করে না। ফলে এই ক্ষেত্রে রোগী প্রচুর পরিমাণে খেতে থাকে এবং ধীরে ধীরে মোটা হতে থাকে। এই সময় রোগীরা প্রথমে খাবার প্রশান্তি সহকারে গ্রহণ করে এবং পরে দ্রুত খাদ্য গ্রহণ করে এবং এতে তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এটি সাধারণত ওবেজ মহিলাদের মাঝে বেশি দেখা দেয়। কিন্তু স্বাভাবিক স্বাস্থ্যর মানুষেরও এ রোগ হতে পারে।

লক্ষণ

Being Eating Disorder যে লক্ষণ গুলো দেখা দেয়,তা হলঃ-

  1. এই Disorder এ আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুততার সাথে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করে থাকে।
  2. ৩ বেলা খাবার পর পরেই সে যে কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারে
  3. যে কোনো প্রকার আবেগের কারণে বেশি খাবার খায়
  4. পেট ব্যথা বা বমির উদ্রেক না হওয়া পর্যন্ত খেতে পারে
  5. সারাদিনই কিছু না কিছু খাবার জন্য ছোক ছোক করতে থাকে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  1. বংশগত কারণে হতে পারে
  2. অতিরিক্ত ডিপ্রেশন, চিন্তা বা একাকীত্ব থেকে হতে পারে
  3. বাচ্চাদের জোড় করে খাওয়ালে অনেক সময় তা স্থায়ী হয়ে যায়। ফলে ক্ষুধা না লাগলেও অনেক বাচ্চা বেশি খায়
  4. হাইপোথ্যালামাস এর যে অংশ থেকে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রিত হয় সেখানে সমস্যা থাকলে এই সমস্যা হয়।

চিকিৎসা

কোনো Eating Disorder শতভাগ চিকিৎসা সম্ভব নয়। তবে সহজেই counseling করে তার আচরণগত পরিবর্তন করা যায়। সাধারণত ৩ ভাবে এটি সারানো যেতে পারে। পরিবার এর সাথে কথা  বলে তাদের কে খাবার সম্পর্কে ধারণা দেয়া। রোগীকে বুঝিয়ে বলা এবং রোগীর খাবারের পরিমাণকে পরিমিত করে দেয়া।

ক্যালরি

এ ধরনের রোগীকে কতটুকু খাবার দিতে হবে তা বের করতে হবে। রোগীর চাহিদা অনুযায়ী খাবার দিতে হবে। তবে যদি রোগী মোটা হয়ে থাকে তবে তাকে কম ক্যালরি দিতে হবে।

শর্করা

শর্করার পরিমাণ চাহিদা অনুযায়ী ঠিক থাকবে তবে সে পরিমাণে সিম্পল শর্করা যেমন চিনি, মধু, মিষ্টি ইত্যাদি কম দিতে হবে এবং জটিল শর্করা বেশি দিতে হবে, যেমন শাক সবজি।

আমিষ

প্রতি কেজি ওজন এর জন্য ১ গ্রাম আমিষ দেয়া যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ২য় শ্রেণীর আমিষ খেতে উৎসাহিত করতে হবে।

ভিটামিন ও মিনারেলস

খাবার বেশি খেলেও সুষম খাদ্যের অভাব হয় এই সময়। তাই ভিটামিন ও মিনারেলস এর অভাব হয়। তাই সাপ্লিমেন্ট এর দরকার পরতে পারে। এনেমিয়া থাকলে আয়রন সাপ্লিমেন্ট দেয়া যায়। প্রচুর পানি খেতে দিতে হবে যাতে পেট ভরা থাকে। সেই সাথে পরিশ্রম করতে হবে।

খাবার যেমন শরীরকে সুস্থ রাখে তেমনই অসুস্থও করে তুলতে পারে। খাবারকে আয়ত্তে রাখা তাই শুধু দরকারই নয়, বরং বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। তাই পরিমিত খাবার খান, দেহকে প্রশান্তি দিন।

লিখেছেনঃ ফারিয়া ইসলাম

ছবিঃ ইটিংডিজঅর্ডারগ্রুপ্স.কম

সম্পর্কিত লেখা

ক্র্যাশ ডায়েটে নয়, অভ্যস্ত হন ক্লিন ইটিং-এ!
ফিটনেস

ক্র্যাশ ডায়েটে নয়, অভ্যস্ত হন ক্লিন ইটিং-এ!

একটু ফিগার সচেতন যারা তারা হয়তো এর মধ্যেই ভেবে নিয়েছেন এক সপ্তাহের ক্র্যাশ ডায়েট করে ওজন ঝরিয়ে ফেলবেন। কিন্তু এই ক্র্যাশ ডায়েট দ্রুত ওজন কমলেও স্বাস্থ...

সোনামনির খাবার নিয়ে বায়না, আর না আর না!
মা ও শিশু

সোনামনির খাবার নিয়ে বায়না, আর না আর না!

বাচ্চাকে খাবার খাওয়ানো একটি কঠিন কাজ বলেই জানি আমরা সবাই। পৃথিবীতে মনে হয় এমন কোন মা নেই যিনি তার বাচ্চাকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে সমস্যায় পড়েননি। সম...

শিশুকে খাবার খাওয়ান ১২টি কার্যকরী পদ্ধতির সাহায্যে!
মা ও শিশু

শিশুকে খাবার খাওয়ান ১২টি কার্যকরী পদ্ধতির সাহায্যে!

একজন মা হিসেবে আপনি অনেক হতাশ হতে পারেন যখন কোনও একটি সুস্বাস্থ্যকর খাবার আপনি অনেক যত্ন ও ভালোবাসা নিয়ে তৈরি করলেন এবং আপনার বাচ্চাটি এসে সেই খাবারটি...

সুস্থ থাকার জন্য কিটো ডায়েট কি আসলেই উপকারী?
স্বাস্থ্য

সুস্থ থাকার জন্য কিটো ডায়েট কি আসলেই উপকারী?

স্বাস্থ্য নিয়ে যারা সচেতন বা একটু হলেও খোঁজ খবর রাখেন তাদের কারো কাছেই হয়তো কিটো ডায়েটের কথা অজানা নয়। কিটো ডায়েটের পুরো নাম কিটোজেনিক ডায়েট। বর্তমানে...

আরও পড়ুন

এড়িয়ে চলুন খাবার টেবিলের বদঅভ্যাসগুলো
লাইফ স্টাইল

এড়িয়ে চলুন খাবার টেবিলের বদঅভ্যাসগুলো

মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের প্রথমেই চলে আসে খাদ্য। এই খাদ্য গ্রহণে রয়েছে হরেক রকমফের। খাদ্যের তালিকায় রকমফের থাকলেও খাদ্য গ্রহণের সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রে...

রান্নাবান্নায় ঝামেলা এড়াতে মেনে চলুন কিছু বিশেষ টিপস!
রেসিপি

রান্নাবান্নায় ঝামেলা এড়াতে মেনে চলুন কিছু বিশেষ টিপস!

আমরা কম বেশি সবাই রান্না জানি। কারোটা খুব ভালো হয়, কারোটা একটু কম। আজ কিছু টিপস নিয়ে কথা বলবো । অনেকেই হয়তো অনেক কিছু জানেন। তারপরও নতুন কিছু জানাবার...

ফুড পয়জনিং বা ঘন ঘন পেট খারাপ হলে কী করবেন?
সুস্থতা

ফুড পয়জনিং বা ঘন ঘন পেট খারাপ হলে কী করবেন?

আমরা অনেকেই মনে করি বমি হলে বা পেট ব্যথা করলেই ফুড পয়জনিং হয়েছে। আসলে বিষয়টি এমন নয়। পেট ব্যথার অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। ফুড পয়জনিং মূলত দূষিত খাবা...

ভালো খাদ্যাভ্যাস গড়ার ১৬টি টিপস!
সুস্থতা

ভালো খাদ্যাভ্যাস গড়ার ১৬টি টিপস!

যে অভ্যাসগুলো সামাজিক ও স্বাস্থ্য সম্মত তাই ভালো অভ্যাস। জীবনধারণের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে ভালো অভ্যাস প্রয়োজন। এই ভালো অভ্যাস গুলোর মধ্যে ১ টি হল ভালো...

বদহজম ও পেট ফাঁপার কারণসমূহ ও এর ৭টি প্রতিকার!
সুস্থতা

বদহজম ও পেট ফাঁপার কারণসমূহ ও এর ৭টি প্রতিকার!

পেট ফাঁপা তলপেটের একটি অস্বস্তিকর অবস্থা। এই অবস্থা সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানে। আমাদের পাকস্থলী যে পরিমাণ খাদ্য হজম করতে পারে, তার অতিরিক্ত কোন খাবার...

রমজানের খাদ্য | ১৩টি গ্রহণীয় ও বর্জনীয় খাবার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য!
সুস্থতা

রমজানের খাদ্য | ১৩টি গ্রহণীয় ও বর্জনীয় খাবার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য!

রমজান মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস সকল মুসলমানদের জন্য। রমজান এমন একটা মাস যা আমাদের ঐতিহ্য এবং অভ্যাসকে সাজিয়ে দেয় তার নিজের মত করে। সেই সাথে...

…