প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম | ঋতুস্রাবে ইমোশনাল সমস্যাটি কেন হয়?

সানিয়া · Jun 28, 2013 · 1 min read

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম | ঋতুস্রাবে ইমোশনাল সমস্যাটি কেন হয়?

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম বা PMS-কে সহজভাবে বলা যায় কিছু ইমোশনাল সমস্যার সমষ্টি যেখানে শারীরিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে আবার নাও দিতে পারে। প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম অনেক সময় পেরি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম ও বলা হয়। কেননা এর লক্ষণসমূহ পিরিয়ডের আগে বা পরে যেকোনো সময়-ই দেখা দিতে পারে। পিরিয়ডের সময় হওয়া শারীরিক সমস্যাগুলো যেমন- তলপেটে ব্যাথা, স্তনে ব্যাথা এগুলোর সাথে ইমোশনাল বা মানসিক সম্পৃক্ততা না থাকলে এগুলো প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম নয়। প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম হলে ইমোশনাল সমস্যাগুলো অবশ্যই হবে, সাথে শারীরিক সমস্যা ও হতে পারে।

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম কখন হয়

সাধারণত পিরিয়ড শুরু হওয়ার ১০ দিন আগে লক্ষণ শুরু হয় এবং পিরিয়ড শুরু হলে বা শুরু হওয়ার অল্প কিছু সময় আগে লক্ষণগুলো চলে যায়।

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম এর লক্ষণসমূহ

১) দুশ্চিন্তা করা

২) মেজাজ খিটখিটে থাকা

৩) আনহ্যাপিনেস বা অসুখী মনে হওয়া

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম এর লক্ষণসমূহ - shajgoj.com

এই তিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এ ছাড়া আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন-

১) স্ট্রেস

২) উদ্বিগ্ন হওয়া

৩) ঘুম না হওয়া

৪) মাথা ব্যাথা

৫) ক্লান্তি

৬) মুড এর পরিবর্তন

৭) ইমোশনাল সেনসিটিভিটি বেড়ে যাওয়া

৮) সেক্সে অনীহা

৯) নিজেকে দুঃখী মনে হওয়া

ব্যাক্তিভেদে ভিন্নতা

একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম ভাবে প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম দেখা দিতে পারে। যেমন, কারো ক্ষেত্রে পিরিয়ডের ৩/৪ দিন আগে অনেক দুশ্চিন্তা হতে পারে, কারো উদ্বিগ্নতা হতে পারে, কারো বা মেজাজ খারাপ হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি চক্রে এর ভিন্নতা সাধারণত দেখা যায় না। যেমন, গত চক্রে যদি কারো মেজাজ খারাপ থাকে, সেক্ষেত্রে এই চক্রে দুশ্চিন্তা বা উদ্বিগ্ন থাকার ব্যাপারটা দেখা যায় না। তবে কম বেশি হতে পারে। যেমন, গতবারের চেয়ে এবার দুশ্চিন্তা কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম এ কাদের ঝুঁকি বেশি?

১) অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ

২) বয়স বাড়া

৩) স্ট্রেসপূর্ণ জীবনযাপন

৪) ডিপ্রেশন এ থাকা

৫) পরিবারে আর কারো থাকলে

৬) খাদ্য-  ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ভিটামিন ই ও ডি এর অভাবে।

রোগ নির্ণয়

রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এখানে কোন নির্দিষ্ট পরীক্ষা নিরীক্ষার উপায় নেই। তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য থেকে মূলত রোগ নির্ণয় করা যায়।

১) পিরিয়ডের পূর্বে মানসিক বা ইমোশনাল লক্ষণ দেখা যাওয়া।

২) লক্ষণগুলো পিরিয়ডের ঠিক আগে বা শুরু হওয়ার পর চলে যাওয়া।

৩) দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হওয়া।

লক্ষণগুলো যে সময় শুরু হয়, ১০দিন আগে, সে সময়টায় সাধারণত ডিম্বাণু রিলিজ হয় অথবা চক্রের লুটিয়াল পর্ব চলে।

আপনার ও এমন হয় কিনা এটা জানার জন্য ক্যালেন্ডার এর পাতায় দাগ দিয়ে রাখুন। ঠিক ঋতুস্রাবের কয়েকদিন আগে মানসিকতার পরিবর্তন এবং পরে ঠিক হয়ে যাওয়া, দুটোই মার্ক করে রাখুন। অন্তত পর পর দুটো চক্রের রেকর্ড দেখে রোগ নির্ণয় করা যায়।

কেন এমন হয়?

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম এর কারণ পিরিয়ড চক্রে হরমোনের পরিবর্তন - shajgoj.com

এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনও উত্তর পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হয়, পিরিয়ড চক্রে হরমোনের পরিবর্তনের জন্য এমন হয়। লুটিয়াল পর্বে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের সাথে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নিউরোট্রান্সমিটারের ক্রিয়ায় এটা হতে পারে। সেরোটোনিন ও গ্লুটামেট এমন-ই দুটো নিউরোট্রান্সমিটার।

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম এর চিকিৎসা

চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। সাধারণভাবে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন সাহায্য করতে পারে। চিকিৎসা করার জন্য আমরা মূলত SSRI গ্রুপের ওষুধ বেছে নিই। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ই দেয়া যায়। হরমোন দিয়েও চিকিৎসা করা হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণকারী পিল এক্ষেত্রে ভাল কাজ করে। ক্লোনিডিন, ফিনাইল অ্যালানিন, NSAID এগুলো ও দেয়া হয়। প্রতিটি মানুষ আলাদা, তাই সবার চিকিৎসা পদ্ধতি ও আলাদা হবে। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চিকিৎসা না নিলে?

অনেকেই প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম নিয়ে আলাদা করে কিছু ভাবেন না যেন এটা সাধারণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও তা নয়। যদি চিকিৎসা না নেয়া হয় তাহলে ক্লিনিক্যাল রোগ হতে পারে, যেমন - প্রি মেনসট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিসঅর্ডার (Premenstrual dysphoric disorder), ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন, সাইকিক ডিসঅর্ডার ইত্যাদি। আপনার দৈনন্দিন জীবন তো ব্যাহত হয় ই, আপনার নিকট জনের কাছেও সুখকর হয় না।

করনীয় কি?

১) নিয়মত স্বাস্থ্যকর খাবার খান

২) নিয়মিত ব্যায়াম করুন

৩) কাজে ডুবে থাকুন

৪) লবণ এবং চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন

৫) ক্যাফেইন পরিহার করুন

৬) স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করুন

জীবন একটাই। রোগ ছোট হোক বা বড়, চিকিৎসা নিন, ভাল থাকুন আর জীবনকে উপভোগ করুন।

ছবি- সংগৃহীত: সাটারস্টক

সম্পর্কিত লেখা

গর্ভবতী মায়ের প্রি-এক্লাম্পসিয়া | ধরণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ জানেন?
মা ও শিশু

গর্ভবতী মায়ের প্রি-এক্লাম্পসিয়া | ধরণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ জানেন?

প্রি-এক্লাম্পসিয়া কী? প্রি-এক্লাম্পসিয়া উচ্চ রক্তচাপ জনিত একটি সমস্যা যা শুধুমাত্র গর্ভবতী মায়েদের হয়ে থাকে। শতকরা ৫-১৫ ভাগ নারী গর্ভাবস্থায় এই সমস্য...

প্রি ডায়াবেটিস এর লক্ষণ এবং ঝুঁকি কমানোর উপায় কী হতে পারে?
সুস্থতা

প্রি ডায়াবেটিস এর লক্ষণ এবং ঝুঁকি কমানোর উপায় কী হতে পারে?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার পর সবাই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে, লাইফস্টাইলে নিয়ে আসে পরিবর্তন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ৮০ শতাংশ মানুষ জানেন না যে তারা প্রি ডায়...

পোস্ট কোভিড সিনড্রোম | কোভিড নেগেটিভ হয়েও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন?
সুস্থতা

পোস্ট কোভিড সিনড্রোম | কোভিড নেগেটিভ হয়েও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন?

মাস কয়েক আগেই খালেক সাহেব সপরিবারে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছিলেন, থমকে গিয়েছিল তাদের জীবন। পরিবারের বাকি সবাই পরিত্রাণ পেলেও খালেক সাহেবের বাবা রেহাই পান...

জিনগত ত্রুটির কারণে শিশুদের কোন রোগগুলো হতে পারে?
মা ও শিশু

জিনগত ত্রুটির কারণে শিশুদের কোন রোগগুলো হতে পারে?

একটি সুস্থ সবল শিশুর জন্ম সকল পরিবারেরই কাম্য। কিন্তু জন্মগতভাবে অনেক শিশুই বিভিন্ন রকম ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে আসে। অনেকেই একে পাপের শাস্তি বা কপাল দোষ...

আরও পড়ুন

পিরিয়ড ট্যাবু | কুসংস্কার ভাঙার সময় এসেছে এখনি 
সম্পাদকের পছন্দ

পিরিয়ড ট্যাবু | কুসংস্কার ভাঙার সময় এসেছে এখনি 

একজন মেয়ে হিসাবে আপনার রিপ্রোডাক্টিভ অরগ্যান, শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া আর পিরিয়ড সংক্রান্ত হাইজিন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা আছে কি? আর ছেলেদের কাছে প্রশ্ন আ...

গুলেন ব্যারি সিনড্রোম বা জিবিএস এর লক্ষণ ও চিকিৎসা
সুস্থতা

গুলেন ব্যারি সিনড্রোম বা জিবিএস এর লক্ষণ ও চিকিৎসা

গুলেন ব্যারি সিনড্রোম বা সংক্ষেপে জিবিএস হচ্ছে এমন একটি মারাত্বক রোগ যা মাংশপেশীকে দুর্বল করে ধীরে ধীরে শরীরের শক্তি কমিয়ে দেয়। একপর্যায়ে নড়াচড়ার স...

অনিয়মিত পিরিয়ড | কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে?
সুস্থতা

অনিয়মিত পিরিয়ড | কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে?

১২-১৩ বছর বয়স থেকে ৪৫-৫০ বছর অবধি একজন নারীর প্রজননকাল। অর্থাৎ সন্তান ধারনের জন্য তার শরীরে এই সময়ে প্রতি মাসে ডিম্বাণু তৈরি হয়। শুক্রাণুর সংস্পর্শে স...

পিরিয়ডের সময় বিশেষ পুষ্টি | কী খাবেন ও খাবেন না?
সুস্থতা

পিরিয়ডের সময় বিশেষ পুষ্টি | কী খাবেন ও খাবেন না?

পিরিয়ড প্রতিটি নারীর জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রতি মাসের এই ৩ থেকে ৭ দিন অনেকটা রক্ত বের হয়ে যায় শরীর থেকে, যার ফলে আয়রনসহ নানা পুষ্টি উপাদান...

পিরিয়ডে তীব্র পেট ব্যথা! এই সময়ে কীভাবে একটু স্বস্তি আর আরাম পাবো?
সুস্থতা

পিরিয়ডে তীব্র পেট ব্যথা! এই সময়ে কীভাবে একটু স্বস্তি আর আরাম পাবো?

পিরিয়ডে তীব্র পেট ব্যথা? পিরিয়ড ক্র্যাম্পস বা মেনস্ট্রুয়াল ক্র্যাম্পস মেয়েদের প্রতিমাসের সঙ্গী বলা যায়। তীব্র হোক কিংবা মৃদু, পিরিয়ড ক্র্যাম্পস নিয়ে ভ...

বয়সভেদে ঋতুস্রাবের পরিবর্তন সম্পর্কে জানা আছে কি?
সুস্থতা

বয়সভেদে ঋতুস্রাবের পরিবর্তন সম্পর্কে জানা আছে কি?

একটি মেয়ের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অধ্যায় হচ্ছে পিরিয়ড। সাধারণত ৮ থেকে ১৩ বছরের মেয়েদের প্রথম মাসিক হয়ে থাকে। মাসিকচক্রের প্রথম ধাপকে মেনারকি বলা হ...

…