নিখুঁত মেকআপ পেতে সহজ ৫টি মেকআপ হ্যাকস
শাহরীন অনি · Nov 01, 2020 · 1 min read

সহজ ৫টি মেকআপ হ্যাকস
১. আইশ্যাডোর পিগমেন্টেশন বাড়াতে সাদা কাজল
আইশ্যাডো লাগানোর সময় আমাদের অনেকেরই একটা কমন কমপ্লেইন থাকে চোখের পাতায় পিগমেন্টেশন বোঝা যায়না। কন্সিলার, ফাউন্ডেশন, সেটিং পাউডার সব কিছু ব্যবহার করার পরও যেন মন মত হচ্ছেনা! এক্ষেত্রে আপনার এই সমস্যার সহজ সমাধান হবে সাদা কাজল। সাধারণত যাদের চোখ ছোট তারা মেকআপ করার সময় বা চোখের মেকআপ করার সময় সাদা কাজল ব্যবহার করে থাকি। এতে চোখটা আরও ভাসা ভাসা দেখতে লাগে এবং চেহারায় সুন্দর করে ফুটে উঠে। কম বেশি আমাদের সবার কাছেই এখন এই সাদা কাজলটি থাকে। চোখের মেকআপ করার সময় কন্সিলার ব্যবহারের পর আপনার সাদা কাজলটি চোখের বেইজ এরিয়াতে লাগিয়ে নিন। ব্যাস! এবার যে কোন কালারের আইশ্যাডোই লাগান না কেন, দেখবেন তার পিগমেন্টেশন আগের চেয়ে আরও অনেক গুণ বেড়ে গেছে।২. লিপস্টিক দীর্ঘস্থায়ী করে ম্যাট লুক দিবে পাউডার
মার্কেটে এখন নানা রকম ম্যাট লিকুয়িড লিপস্টিক পাওয়া গেলেও অনেকেই বুলেট লিপস্টিক ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তবে বুলেট লিপস্টিকগুলোর কমন একটি সমস্যা হলো এটি বেশীক্ষণ ঠোঁটে থাকেনা। আবার খুব সহজেই ঠোঁটের আশেপাশে ছড়িয়ে একটা বিচ্ছিরি অবস্থা সৃষ্টি করে। এই সমস্যার সহজ সমাধান দিবে পাউডার। লিপস্টিক লাগানোর পর ঠোটের উপর একটি টিস্যু পেপার ধরে তার উপর একটি ব্রাশ দিয়ে পাউডার লাগিয়ে নিন। অথবা হাত দিয়েও হালকা একটু ড্যাব করে পাউডার লাগিয়ে নিন। এবার কয়েক ঘন্টার জন্যে একদম নিশ্চিন্ত থাকুন। তেল জাতীয় কোন খাবার না খেলে, এটি নির্দ্বিধায় কয়েক ঘণ্টার জন্যে একদম ম্যাট লুক দিবে।
৩. মেকআপ করুন ন্যাচারাল আলোতে
দিনের বেলা যখনই মেকআপ করবেন সবচেয়ে ভাল হয় যদি আর্টিফিশিয়াল আলোর জায়গায় দিনের ন্যাচারাল আলো ব্যবহার করা যায়। ন্যাচারাল আলোতে আমাদের ফেইসের প্রত্যেকটি জায়গা তুলনামূলক ভাবে বেশি ভালোভাবে দেখা যায়। তাই কোন জায়গায় কতটুকু পরিমাণে কোন প্রোডাক্ট ইউজ করতে হবে তা বুঝতে সুবিধা হয়। এর ফলে মেকআপের ফিনিশিংও সুন্দর হয়। তবে যদি আর্টিফিশিয়াল আলোতে করতেই হয় তবে চেষ্টা করবেন মেকআপ শেষে একবার বাইরের ন্যাচারাল আলোতে যেয়ে দেখে নিতে যে, ঠিক ঠাক আছে কিনা সবকিছু।৪. আইল্যাশ দীর্ঘসময় কার্ল রাখতে হেয়ার ড্রায়ার
চোখের পারফেক্ট লুক দিতে ফেক ল্যাশের জুড়ি নেই। তবে আমরা অনেকেই এই ফেক ল্যাশ ব্যবহারে অভ্যস্ত না। তাই চোখের ন্যচারাল ল্যাশ কেই আইল্যাশ কার্লারের সাহায্যে কার্ল করে নিতে পছন্দ করি অনেকেই। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, অনেকক্ষণ ধরে আইল্যাশ কার্ল রাখতে হেয়ার ড্রায়ার কিন্তু হতে পারে আপনার পরম বন্ধু! কীভাবে? তেমন কিছুই না! জাস্ট আইল্যাশ কার্লারটি ব্যবহারের আগে, হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে একটু হালকা গরম করে নিন। এবার যেভাবে কার্ল করেন সেভাবেই নরমালি কার্ল করে নিন। ব্যাস! ডিফরেন্সটা নিজেই বুঝবেন।৫. মাশকারার দাগ এড়াতে ছোট চামচ
চোখের সাঁজে মাশকারা ব্যবহারের জুড়ি নেই। যারা মেকআপ করায় এক্সপার্ট তারা খুব সহজেই সুন্দর করে ঝটপট মাশকারা অ্যাপ্লাই করে ফেলতে পারেন। তবে যারা বিগেইনার তাদের কিন্তু পোহাতে হয় নানা রকম সমস্যা। কতটুক নিয়ে লাগাতে হবে, কতবার লাগাতে হবে, কোন দিক থেকে অ্যাপ্লাই করতে হবে এমন আরও কত কী সমস্যা। তাইনা? তবে সবচেয়ে বিরক্তিকর সমস্যা যখন মাশকারা অ্যাপ্লাই করার সময় চোখের পাতায় লেগে লেগে যায়। এ সমস্যা এড়ানোর জন্য মাশকারা ব্যবহারের আগে চোখের পাতায় চামচের উল্টো দিকের গোলাকার অংশটি ধরে তারপর স্বাভাবিক নিয়মে মাশকারা অ্যাপ্লাই করুন। নিচের চোখের পাপড়িতেও একইভাবে মাশকারা অ্যাপ্লাই করুন। আশা করছি আর এমন সমস্যা হবেনা।
এই তো জেনে নিলাম, মেকআপ নিয়ে ৫টি দারুণ হ্যাকস! হ্যাক বলতে কিন্তু মূলত আমরা ঐ সকল পদ্ধতিগুলোকে বুঝি যা আমাদের রেগুলার জীবনের কাজগুলোকে সহজ করে তোলে। এরকম আরও অসংখ্য বিউটি হ্যাক রয়েছে যা দিয়ে ছোটখাটো উপায়ে আমাদের বিউটি রিলেটেড সমস্যাগুলোর সমাধান করে ফেলতে পারি। আশা করছি, আজকের এই হ্যাকসগুলো আপনাদের কাজে লাগবে।
স্কিন ও হেয়ার কেয়ারের জন্য অথেনটিক প্রোডাক্ট আপনারা চাইলে সাজগোজের দুটি ফিজিক্যাল শপ ভিজিট করতে পারেন, যার একটি যমুনা ফিউচার পার্ক ও অপরটি সীমান্ত স্কয়ারে অবস্থিত। আর অনলাইনে কিনতে চাইলে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, সুন্দর থাকবেন।
ছবি- সাজগোজ, গেটি ইমেজ








