অফিসে ইমোশনাল হয়ে কাজের ক্ষতি করছেন না তো?

জুবায়ের আহাম্মেদ · May 31, 2022 · 1 min read

অফিসে ইমোশনাল হয়ে কাজের ক্ষতি করছেন না তো?

মানুষ মাত্রই তার ইমোশন থাকবে। ইমোশন এক্সপ্রেস করা অবশ্যই ভালো, তবে অফিসে কাজ করার সময় এই ইমোশনই আপনার জন্য ক্ষতিকারক হয়ে উঠতে পারে। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবনে নানা সমস্যা থাকে। এই সমস্যাগুলো বিভিন্নভাবে প্রফেশনাল লাইফে এফেক্ট ফেলতে পারে। ফ্রাস্ট্রেশন, দুশ্চিন্তা, রাগ, কাউকে অপছন্দ করা বা নিজে ভালো না থাকা- সবই কোনো না ভাবে ইমোশন। তাই আগে বুঝতে হবে আপনি কী ধরনের ইমোশনাল প্রবলেম ফেইস করছেন এবং কীভাবে সেটি কাটিয়ে উঠবেন। আজকের আর্টিকেলে জানাবো অফিসে ইমোশনাল হয়ে পড়লেও কীভাবে সামলে উঠবেন সে সম্পর্কে।

১) নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বোঝা

আপনি যে ইমোশনাল প্রবলেম ফেইস করছেন সেটা বোঝার জন্য আগে বুঝতে হবে আপনি কেমন আছেন। আমাদের মস্তিষ্কের আগে শরীর বুঝতে পারে আমরা কেমন আছি। চোখ লাল হয়ে যাওয়া, স্বাভাবিকের তুলনায় বুকে ধড়ফড় বেশি হওয়া এগুলো ইমোশন এক্সপ্রেস করারই একটি লক্ষণ। যদি বুঝতে পারেন অন্য সময়ের তুলনায় বেশি দুশ্চিন্তা হচ্ছে অথবা মন খারাপ হয়ে আছে, তাহলে যে কোনো অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একবার ভাবুন। এ সময়গুলোতে যদি একা থাকতে ভালো না লাগে তাহলে অফিসেই ক্লোজ কোনো সহকর্মীর সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন।

শরীর খারাপ লাগা

২) রিল্যাক্স থাকা

কর্মক্ষেত্রে রিল্যাক্স থাকা অনেক জরুরি। সুযোগ পেলে চেষ্টা করুন নিজেকে একটু সময় দেওয়ার। ডিপ ব্রিদিং কিন্তু রিল্যাক্স হওয়ার খুব ভালো একটি উপায়। দুশ্চিন্তা, ফ্রাস্ট্রেশন, রাগ ঝেড়ে ফেলার জন্য এই পদ্ধতিটি বেশ কাজে দেয়। জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এভাবে ১০ পর্যন্ত গুণে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। এছাড়া হাঁটাহাঁটি বা রিল্যাক্সিং মিউজিক শুনলেও বেশ আরাম লাগে। কারও সঙ্গে কথা বলতে যদি ভালো লাগে তবে সেটাও করতে পারেন।

৩) ১০ পর্যন্ত গোণা

অফিসে ইমোশনাল হয়ে যদি কখনো রাগ হয় বা ফ্রাস্ট্রেশন কাজ করে অথবা তার চেয়েও খারাপ কিছু হয়, তখন মনে মনে ১০ পর্যন্ত গুণতে শুরু করুন। যদি বুঝতে পারেন নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছেন না তখন এই মেথড ইউজ করুন। যদি কোনো ঘটনার জন্য আপনি দায়ী হয়ে থাকেন, তবে কিছুটা সময় একা থাকুন। তবে হ্যাঁ, কিছু সময় পর অবশ্যই যে কারণে এমনটি হয়েছে সেটি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

৪) নিজের দোষ স্বীকার করা

যদি আপনার ভুলের কারণে কোনো মিস কমিউনিকেশন অথবা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই রিয়েক্ট করা যাবে না। নিজের ভুল স্বীকার করে নিতে হবে।

স্টিকি নোট লেখা

৫) পছন্দের কাজ করা 

কাজের সময় মেন্টাল স্ট্রেস নতুন কিছু নয়। যে কোনো কারণেই স্ট্রেস হতে পারে। যে সময় এমন হচ্ছে, হতে পারে তখন কথা বলার জন্য আশেপাশে কাউকে পাচ্ছেন না। তখন আপনার নিজেকেই নিজের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হয়ে উঠতে হবে। ছোট একটি জার্নাল পড়া, স্টিকি নোটে নিজের কথা লিখে রাখা, পছন্দের কোনো ভিডিও দেখা বা গান শোনা, কাগজে আঁকিবুঁকি- সে কোনো কিছুই হয়ে উঠতে পারে আপনার ইমোশন নিয়ন্ত্রণের উপায়।

৬) কলিগদের প্রতি সম্মান থাকা

আপনি নিজেকে যেমন সম্মানিত হিসেবে দেখতে চান, আপনার কলিগকেও ঠিক একইভাবে ট্রিট করুন। যদি কেউ রুড আচরণ করে, জরুরি নয় আপনাকেও তার মতো হতে হবে। বরং রাগ না করে তাকে আপনার মতামত বোঝানোর চেষ্টা করুন।

৭) ক্ষমা চাওয়া

ইমোশনাল হয়ে রাগ করা খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। যদিও উচিত নয়, তবু কাজ করতে করতে এমন যদি কখনো হয়েও যায়, তবে চেষ্টা করুন দ্রুত ক্ষমা চাওয়ার। একদম ডিফেন্সিভ হয়ে যে কিছু বলতে হবে এমন নয় কিন্তু! ‘আমি আমার আচরণের জন্য দুঃখিত’ – এমন একটি কথাও অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।

আড্ডা দেওয়া

৮) নেগেটিভ ইমোশন বাড়ি পর্যন্ত না নিয়ে যাওয়া

কথাটি শুনতে একটু অবাক লাগলেও চেষ্টা করুন দিনের যত রাগ, মন খারাপ আছে সেগুলো অফিসেই শেষ করে ফেলতে। যদি এই খারাপের রেশ বাড়ি পর্যন্ত থাকে, তাহলে ভিতরে ভিতরে আপনি নিজেই হতাশ হয়ে যাবেন। অফিস শেষ করে বাড়ি ফেরার আগে সম্ভব হলে বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে বাইরে কিছুটা সময় কাটিয়ে আসতে পারেন। এতে অনেকটা হালকা লাগবে।

৯) নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া

কাজের শেষে পরিমিত বিশ্রাম ক্লান্তি যেমন দূর করে, তেমনই অনেক নেতিবাচক অনুভূতি ঠেকিয়ে রাখতেও সাহায্য করে। ঘুম ভালো হলে শরীর ভালো থাকবে, সাথে ইমোশন কন্ট্রোল করাও ইজি হবে। রাতে দেরি করে ঘুমানো, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, সকালে দেরি করে অফিসে যাওয়া – এগুলো টেনশন অনেক বাড়িয়ে দেয়। তাই চেষ্টা করুন সময়মতো ঘুমিয়ে সকাল সকাল উঠে পড়তে।

১০) নিজেকে দোষ না দেওয়া

অনেকেই যে কোনো নেগেটিভ ঘটনার কারণে নিজেকে দোষী মানতে থাকেন। এমনটি করা একদমই উচিত নয়। সব সময় পরিস্থিতি আপনার হাতে থাকবে না এটা মেনে নেওয়া শিখতে হবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, সেটা সামাল দিতে পারা জরুরি। এতে যে কোনো সময় নিজেকে যে কোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে।

এক নজরে অফিসে ইমোশন কন্ট্রোল করার উপায়

  • নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বুঝতে পারা
  • বাড়তি চাপ না নিয়ে কর্মক্ষেত্রে রিল্যাক্স থাকা
  • ১০ পর্যন্ত গোণা
  • স্টিকি নোটে কিছু লেখা অথবা পছন্দের গান শোনা, ভিডিও দেখা
  • নেগেটিভ ইমোশন বাড়ি পর্যন্ত না নিয়ে যাওয়া
  • পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়া

ইমোশন প্রতিটি মানুষের ইম্পরট্যান্ট একটি পার্ট। আবেগ না থাকলে আমরা কেউই টিকে থাকতে পারবো না। এর মানে এই নয় যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইমোশনকেই প্রায়োরিটি দিতে হবে। অফিসে যদি ইমোশন কন্ট্রোলে রাখতে পারেন, তবে কর্মস্থলে যেমন আপনি ভালো থাকবেন, তেমনই কাজ করাও আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে।

  ছবিঃ সাজগোজ

Products in this article

সম্পর্কিত লেখা

রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন কার্যকরী ১০টি উপায়ে!
লাইফ স্টাইল

রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন কার্যকরী ১০টি উপায়ে!

প্রচলিত আছে, “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন”! কথাটি অনেকাংশেই সত্য। রাগ দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়ই বরং সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে রাগ। তবে রাগ...

অফিসে বসেও কীভাবে করবেন বেসিক স্কিন কেয়ার?
বিউটি টিপস

অফিসে বসেও কীভাবে করবেন বেসিক স্কিন কেয়ার?

অফিসে বসেও ঝটপট করে নিন বেসিক স্কিন কেয়ার! অবাক হচ্ছেন তাইনা? সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলাচ্ছে আমাদের জীবন যাত্রার ধরণও। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও আ...

মানসিক সুস্থতা বজায় থাকুক সহজ ৬টি অভ্যাসে
লাইফ স্টাইল

মানসিক সুস্থতা বজায় থাকুক সহজ ৬টি অভ্যাসে

হেলদি লাইফস্টাইল ও সেলফ কেয়ার নিয়ে এখন কম-বেশি সবাই বেশ কনসার্নড। আচ্ছা, এই সবকিছুর মূল উদ্দেশ্য কী, বলুন তো? আমার কাছে মনে হয়, শারীরিক ও মানসিকভাবে স...

সফট ফারনিশিং | ভাড়া বাসা সাজানোর ঝক্কি সামলাতে ৩টি টিপস!
গৃহসজ্জা

সফট ফারনিশিং | ভাড়া বাসা সাজানোর ঝক্কি সামলাতে ৩টি টিপস!

বাসায় ইজিলি সেট করা যায় এমন কিছু লাইটিং অপশন নিয়ে আগে কথা বলেছিলাম, আজ বলবো ভাড়া বাসার রঙ দেয়াল, মেঝেতে খুব বড় চেঞ্জ না এনেও শুধুমাত্র সফট ফারনিশিং ও...

আরও পড়ুন

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম | ঋতুস্রাবে ইমোশনাল সমস্যাটি কেন হয়?
সুস্থতা

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম | ঋতুস্রাবে ইমোশনাল সমস্যাটি কেন হয়?

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম বা PMS-কে সহজভাবে বলা যায় কিছু ইমোশনাল সমস্যার সমষ্টি যেখানে শারীরিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে আবার নাও দিতে পারে। প্রি...

বাচ্চাদের হুটহাট জেদ এবং একরোখা স্বভাব কীভাবে কন্ট্রোল করবেন?
মা ও শিশু

বাচ্চাদের হুটহাট জেদ এবং একরোখা স্বভাব কীভাবে কন্ট্রোল করবেন?

খুব জরুরী একটা কল করতে হবে, কিন্তু বাচ্চার হাত থেকে কোনোভাবেই ফোনটা নেয়া যাচ্ছে না! যতই তাকে বুঝাচ্ছেন বা আদর করে বলছেন। কিন্তু না! তার হুটহাট জেদ এবং...

অফিস এটিকেট | প্রত্যেক ব্যক্তির মেনে চলা উচিত এই বিষয়গুলো
অফিস লাইফ

অফিস এটিকেট | প্রত্যেক ব্যক্তির মেনে চলা উচিত এই বিষয়গুলো

'এটিকেট' টার্ম টি অনেকের কাছেই নতুন, কিন্তু এটি মোটেও অজানা কোনো টার্ম নয়। এটিকেট এর বাংলা অর্থ হচ্ছে শিষ্টাচার। সঠিক শিষ্টাচার আমাদের জীবনের সকল ক্ষে...

অফিসে মেকআপ? হুটহাট রেডি হতে যে প্রোডাক্টগুলো হাতের কাছে রাখবেন!
বিউটি টিপস

অফিসে মেকআপ? হুটহাট রেডি হতে যে প্রোডাক্টগুলো হাতের কাছে রাখবেন!

অফিসে কাজ করা মানে দিনের অনেকটা সময় বাড়ির বাইরে থাকা। তাই সকালে বাসা থেকে রেডি হয়ে একবারেই বের হতে হয়। দিনে স্কিন কেয়ারের সুযোগ হয় না, আবার বেলা গড়াতে...

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি | কিভাবে যাবেন কিশোরগঞ্জের এই দর্শনীয় স্থানটিতে?
বেড়ানো

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি | কিভাবে যাবেন কিশোরগঞ্জের এই দর্শনীয় স্থানটিতে?

প্রাচীন জমিদার কিংবা রাজাদের জীবনযাত্রা, নিয়মকানুন এবং প্রথা সম্পর্কে জানার আগ্রহ কমবেশি আমাদের সকলেরই আছে। কিন্তু এই একুশতম শতাব্দীতে স...

জীবনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোন কোন পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিত
লাইফ স্টাইল

জীবনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোন কোন পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিত

আমাদের সবারই জীবনে একটি লক্ষ্য থাকে। লক্ষ্য ছাড়া জীবনকে বলা হয় বৈঠা ছাড়া নৌকার মতো। লক্ষ্য নির্ধারণ করে রাখলে চলার পথ কিছুটা হলেও সহজ হয়ে যায়। কোনো...

…