কাজের চাপ?...দূরে থাক!!

sub-editor · Oct 06, 2018 · 1 min read

কাজের চাপ?...দূরে থাক!!

কাজের চাপ, সকাল থেকে সন্ধ্যে অব্দি এই একই কথা আপনি নিজেও বলবেন, আপনার চারপাশের মানুষকেও বলতে শুনবেন। শুনলেই কেমন যেন ক্লান্তি লাগে। তবে এর মাঝেও কিছু কিছু মানুষ আছেন, যাদেরকে আপনি কখনই অস্থির হতে দেখবেন না, সেটা পরীক্ষা হোক, কিংবা কাজের ডেডলাইন। তাদের দেখলে কেমন যেন একটা স্বস্তির ভাব হয়। তাহলে তারা এমন কী উপায় জানেন, যে তারা সবসময় এতরকম কাজের চাপ থেকে মুক্ত থাকেন? নিশ্চয়ই কিছু একটা উপায় আছে তাদের! কিন্ত সেগুলো কী? সেই আলোচনাই করবো আজ।

প্রথমত, কাজের চাপ থাকবেই, কিন্ত সেটাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, নইলে আদতে সেটা আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমাবে বই বাড়াবে না! উপরন্ত, ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়া বা এংজাইটি-এর মত সমস্যা দেখা দেবে। দ্বিতীয়ত, কাজের চাপকে কখনই বাড়িতে নিয়ে আসা যাবে না বা ব্যক্তিগত জীবনের সাথে মেলানো যাবে না।

দিনের শুরু করুন তাড়াতাড়ি

দিন তখনই তাড়াতাড়ি শেষ হবে যখন আপনি দিন তাড়াতাড়ি শুরু করবেন। এক্ষেত্রে দুই ধরনের মানুষ দেখেছি আমি যারা অফিসে আসেনই দেরি করে। দশটায় অফিস, অথচ আসবেন এগারোটা বাজার দশ মিনিট আগে, আনুষঙ্গিক সব শেষ করে কাজ শুরু করতে এগারোটা। আরেক ধরনের মানুষ আছেন, যারা দশটায় অফিস বলে নয়টা পর্যন্ত ঘুমুবেন, তারপর ছুটতে ছুটতে অফিসে পোঁছাবেন। প্রথম ক্ষেত্রে যেটা হবে, দেরি করে কাজ শুরু করলে আপনার অফিসের কাজ কখনই ঠিক সময়ে শুরু হবে না। আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে যেটা হয়, এই দেরি করে অস্থির হয়ে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছালে এই অস্থিরতা সারাদিন ধরেই আপনাকে ভোগাবে। আর তাছাড়া সকালে একটু তাড়াতাড়ি উঠে বাসা থেকে বের হবার আগেই কাজের তালিকা ঠিক করে নিলে দেখবেন দিনের শুরুটা হবে অনেকটা স্বস্তির সাথে।

কাজ ভাগ করে নিন

ধরুন একটা প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করতে হবে বা বিশাল কোন রিপোর্ট তৈরি করতে হবে। এই ধরনের কাজ দেখলেই মনের ভেতরে অশান্তি শুরু হয়ে যায়। কাজের পরিমান দেখে প্যানিক না করে বরং পুরো কাজটাকে কয়েকটি ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন এবং প্রত্যেক অংশের জন্যে নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন। পুরো কাজের চাপ মাথায় না নিয়ে বরং কাজের ঐ অংশটুকু ভালভাবে শেষ করার চেষ্টা করুন। এতে করে প্যানিক হওয়া থেকে বাঁচবেন, প্লাস ঐ অংশ শেষ হলে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তিও পাবেন।

কাজের মধ্যে ব্রেক নিন

একটানা ৯০ মিনিটের বেশি কাজ করবেন না। এতে শারীরিক  এবং মানসিক স্ট্রেস দুটোই বাড়ে। কাজের প্রতি বিরক্তি আসবে, ব্যাক পেইন হবে, মাথা ধরবে। তাই দেড় ঘণ্টা কাজের পরে মিনিট দশেকের জন্য ব্রেক নিন। একটু হেঁটে আসুন বা চোখ বন্ধ করে রিলাক্স করুন।

লাঞ্চ

কাজের যায়গায় বসে লাঞ্চ করবেন না কখনই। নিজের ডেস্ক ছেড়ে অন্য কোথাও, হয়তো একটা জানালার পাশে বসে, পরিবারের কারো সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে লাঞ্চ সেরে নিন। অনেকটাই রিফ্রেশ লাগবে।

দেয়াল তৈরি করুন

কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে একটি লাইন দাঁড় করান। খুব সহজ কিন্ত। কাজ শেষ করে রিফ্রেশিং বা পছন্দের কোন একটা কাজ যেমন মেডিটেশন, সাঁতার কাটা, হাঁটা, ছোটখাটো কোন এক্সারসাইজ ইত্যাদি। অর্থাৎ এই কাজগুলো করার পরেই আপনি কাজের পরিবেশ থেকে আলাদা হয়ে বাসার পরিবেশে ঢুকবেন বা ব্যক্তিগত কাজ শুরু করবেন। এতে করে অফিসের কাজের চিন্তা মাথা থেকে বের হয়ে যাবে।

ছুটি নিন

ভালোভাবে কাজ করার জন্য ছুটি কাটানো খুব দরকার। লম্বা ছুটি নয়। মাসের একটা বা দুটো দিন পুরোপুরি কাজের পরিবেশ থেকে আলাদা হয়ে যান, যেখানে আপনি কাজের কোন ফোন কল, ইমেল- কোনকিছুরই উত্তর দেবেন না। নিজেকে এইভাবে ডিসকানেক্ট করতে পারলে দেখবেন নতুন করে কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কাজটাকেও আর বোঝা বলে মনে হচ্ছে না।

সবশেষে বলবো, কাজের প্রতি সিরিয়াস হওয়ার চেয়ে কাজের প্রতি সিনসিয়ার হওয়া বেশি জরুরী। নিষ্ঠার সাথে কাজ করুন, সময়ের কাজ সময়ের মধ্যেই শেষ করার অভ্যেস করুন, ডেডলাইন-এর আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। আর কাজের চাপ থাকবেই, এই নিয়ে প্যানিক না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় কাজ করুন।

ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন।

 

লিখেছেন- মাহবুবা মিমি

ছবি- সাটারস্টক

সম্পর্কিত লেখা

প্যানিক অ্যাটাক নাকি প্যানিক ডিজঅর্ডার ? কীভাবে বুঝবেন?
স্বাস্থ্য

প্যানিক অ্যাটাক নাকি প্যানিক ডিজঅর্ডার ? কীভাবে বুঝবেন?

আমাদের পৃথিবীতে বিভিন্ন কারণে এখন বেশ অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। আবার আমাদের জীবনযাত্রাও এখন এত বেশি গতিশীল যে একের পরে এক ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে নিজেকে ম...

কর্মক্ষেত্রে প্রোডাক্টিভিটি বাড়িয়ে তুলুন ছয়টি সহজ উপায়ে
অফিস লাইফ

কর্মক্ষেত্রে প্রোডাক্টিভিটি বাড়িয়ে তুলুন ছয়টি সহজ উপায়ে

পড়ালেখা, চাকরি, ব্যবসা থেকে শুরু করে যে কোনো কাজে আমরা সবাই ভালো ফলাফলেরই প্রত্যাশা করি। সব মানুষের জন্যই প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা সময় বরাদ্দ থাকে। একটু খেয়া...

অফিসের কাজ দ্রুততার সাথে করার ৭টি উপায় 
অফিস লাইফ

অফিসের কাজ দ্রুততার সাথে করার ৭টি উপায় 

একসাথে অনেক কিছুতে মনোযোগ দিতে গিয়ে প্রায়ই আমরা সময়মতো অফিসের কাজ শেষ করতে পারি না। প্রত্যকটা মানুষের কাজের একটা নির্দিষ্ট ধরন আছে, একেক রকম টাইমিং আছ...

পমোডরো টেকনিক; বাড়িয়ে তুলুন আপনার প্রডাক্টিভিটি
লাইফ স্টাইল

পমোডরো টেকনিক; বাড়িয়ে তুলুন আপনার প্রডাক্টিভিটি

এখনকার ডিজিটাল যুগে আমরা সবাই ব্যস্ত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু কাজই করে যাই আমরা। সেটা অফিসেই হোক বা ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই হ...

আরও পড়ুন

মাইন্ড ফোকাস করে কাজে মনোযোগ বাড়াতে ফলো করুন ৭টি টিপস!
অফিস লাইফ

মাইন্ড ফোকাস করে কাজে মনোযোগ বাড়াতে ফলো করুন ৭টি টিপস!

যেকোনো কাজে সফলতা অর্জন করতে চাইলে সেই কাজে আপনার পুরোপুরি মনোযোগ দিতে হবে। তাই আপনি কোনো কাজ নিখুঁতভাবে করতে চাইলে সবার আগে সবটুকু মনোযোগ সেই কাজে দি...

কর্মজীবী নারীর করণীয় | ঘরে-বাইরে কাজের ভারসাম্য আনার ৬টি উপায়!
অফিস লাইফ

কর্মজীবী নারীর করণীয় | ঘরে-বাইরে কাজের ভারসাম্য আনার ৬টি উপায়!

রিয়া চাকরি করছেন একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। দশটা থেকে পাঁচটার নিয়মবদ্ধ অফিস জীবন। কোনো দিন একটু দেরিও হয় ফিরতে, কাজের চাপ বেশি থাকলে। ঘরে অশান্তির শেষ...

দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে কাজে ফিরছেন? মাথায় রাখুন কিছু বিষয়
অফিস লাইফ

দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে কাজে ফিরছেন? মাথায় রাখুন কিছু বিষয়

আমাদের জীবন সরলরেখায় চলে না, একই ছকে বাঁধা পড়ে কেটে যায় না একটা জীবন । সবকিছুতেই বাধা পড়তে পারে, আসতে পারে বিরতি । সেই বাধায় জীবনকে তো বাঁধা পড়তে দেয়া...

আপনি কি কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন?
অফিস লাইফ

আপনি কি কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন?

“জব স্যাটিসফ্যাক্সন” বলে একটা শব্দ এখন বুঝি বইয়ের পাতাতেই পাওয়া যায়। বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিতে বসলেই প্রথম কথা, “ আজকাল অফিস যেতে আর ভালো লাগে না”। হয়তো...

ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স মেনটেইন করার সহজ পাঁচটি টিপস
অফিস লাইফ

ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স মেনটেইন করার সহজ পাঁচটি টিপস

স্বনামধন্য একটা কর্পোরেট কোম্পানিতে স্ট্র‍্যাটেজিক লিড হিসেবে কাজ করছে মাইশা। দিনের বড় একটা সময়ে তাকে বিভিন্ন প্রজেক্টের গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকত...

ওয়ার্কপ্লেসে একটানা বসে কাজ করার জন্য মেরুদণ্ডের ব্যথা বাড়ছে কি?
অফিস লাইফ

ওয়ার্কপ্লেসে একটানা বসে কাজ করার জন্য মেরুদণ্ডের ব্যথা বাড়ছে কি?

রাবিবের ঘাড়ে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে। রাতে ভালো ঘুম হয়নি, কাল অফিসে কাজের চাপ বেশি ছিলো! অল্প বিশ্রামে এটা এমনিতেই সেরে যাবে, এমনটা ভেবেই সে চুপ করে ব্যথা...

…