জামের পুষ্টিগুণ | গ্রীষ্মকালীন এই ফল কেন খাবেন?

নাইমা আক্তার · Aug 12, 2018 · 1 min read

জামের পুষ্টিগুণ | গ্রীষ্মকালীন এই ফল কেন খাবেন?

জাম এশিয়ার একটি পরিচিত মৌসুমি ফল। জাম গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও এটি জুন, জুলাই বা আগস্ট মাসেও পাওয়া যায়। এটি ভিটামিন, খনিজ পদার্থসমৃদ্ধ এবং এতে অনেক ঔষধি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর অনন্য রঙ (বেগুনি কালো) এবং মিষ্টি-টক স্বাদের জন্য অনেকের কাছেই এটি প্রিয়। কিন্তু পছন্দের ফল হলেও জামের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে কি আমরা জানি?

এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম, কিন্তু পুষ্টিতে ভরপুর। এই ফলের  বীজ, পাতা ও ছালের ঔষধি মূল্য রয়েছে এবং এটি বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাগুলোতে ব্যবহার করা হয়। এই ফল বেশ সহজলভ্য আমাদের দেশে, বিশেষ করে এই সিজনে। এবার চলুন জামের ৮টি স্বাস্থ্য উপকারিতা দেখে নেওয়া যাক।

জামের পুষ্টিগুণ

১. রক্তে ​​শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এটি বেশ কার্যকরী। অনেকেই জানেন, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম খুবই উপকারী। কারণ, এতে থাকা অ্যান্টি-ডায়াবেটিক প্রোপার্টিজ-এর কারণে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, যা  স্টার্চ ও চিনিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরে  শক্তির যোগান দেয়। আরেকটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে জামের বীজ ৩০%-এর বেশি পরিমাণে রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে।

২. হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে

জাম ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। ক্যালসিয়াম ও আয়রন হাড়ের শক্তি বৃদ্ধির জন্য খুবই দরকারি উপাদান। হাড় ক্ষয়ে যাওয়া রোগীদের ও বয়স্ক মানুষদের খাবার তালিকায় এই সুস্বাদু ফলটি রাখা উচিত।

৩. ইনফেকশন দূর করে

এতে ম্যালিক অ্যাসিড (malic acid), গ্যালিক অ্যাসিড (galic acid), অক্সালিক অ্যাসিড (oxalic acid) এবং ট্যানিনস (tannins)- এর মতো যৌগ রয়েছে। এতে একইসাথে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটড়ি প্রোপার্টিজ আছে। জাম শরীর থেকে টক্সিন এলিমেন্টস ও ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে।

8. জন্ডিস ও অ্যানিমিয়া নিরাময় করে

জামের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে আয়রন একটি। যাদের শরীরে হিমোগ্লোবিন কম, তাদের জন্য এটি দারুণ উপকারী। জামে থাকা আয়রন অ্যানিমিয়া ও জন্ডিস নিরাময় করে এবং রক্ত স্বল্পতাজনিত সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের জন্য জাম খুব ভালো কাজ করে।

৫. ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে

বেশ কয়েকটি গবেষণায় জামের কেমো প্রোটেক্টিভ (camo protective) বৈশিষ্ট্য নিয়ে ইনভেস্টিগেট হয়েছে। জে. সি. জ্যাগেটিয়া ও তার কলিগদের একটি গবেষণা অনুযায়ী এই ফলের নির্যাসে প্রোটেক্টিভ বৈশিষ্ট্য আছে, যা প্রমাণ করে যে এই ফলের নির্যাস ক্যান্সার কোষকে প্রিভেন্ট করে। এটি ফ্রি রেডিক্যালসকে নিউট্রিলাইজ করতেও ভূমিকা রাখে।

৬. ইমিউনিটি বৃদ্ধি করে

জাম দেহের ইমিউন সিস্টেম (immune system)-কে আরো শক্তিশালী করে তোলে। এতে থাকা ভিটামিন-সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সাধারণ সিজনাল ফ্লু এর বিরুদ্ধে শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে বুস্ট আপ করে। সেই সাথে এটি মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে। এটি স্কিনের জন্যও দারুণ উপকারী।

৭. ডায়াবেটিক রোগীদের জটিলতা কমায়

জামে আছে মিনিমাল গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (glycemic index) যা ডায়াবেটিস-এর জন্য ভালো। ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করতে ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য এটি বেশ উপকারী, বিভিন্ন গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। জামের পাতা, ছাল এবং বীজ ডায়াবেটিস-এর জন্য সবচেয়ে উপকারি অংশ। এর মধ্যে জামের বীজ অ্যান্টি-ডায়াবেটিক এলিমেন্ট হিসেবে প্রমাণিত।

৮. হার্টের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে

জামে আছে অ্যালজিনিক অ্যাসিড (alginic acid) বা অ্যালজিট্রিন (algitrin), অ্যান্থোসিয়ানিন (anthocyanin) ও অ্যান্থোসায়ানাডিনস (anthocyanidin)-এর  মতো পুষ্টিসমূহ যা রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং এই যৌগগুলো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসসমৃদ্ধ যা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুস্থ রাখতে অসামান্য অবদান রাখে। এছাড়াও এটি পটাসিয়াম-এর একটি সমৃদ্ধ ভাণ্ডার, যা উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সাহায্য করে, যা হার্ট অ্যাটাক-এর ঝুঁকি কমায়।

জামের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে যাদের জানা ছিলো না, তারা আজ বেশ কিছু তথ্য জানতে পারলেন। সবশেষে বলতে চাই, গ্রীষ্মকালীন অন্যান্য ফলগুলোর মতো জাম হয়তো এতোটা জনপ্রিয় নয়, কিন্তু এতে আছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান যা বিভিন্ন রোগ থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তাই আমাদের উচিত সহজলভ্য ও সুস্বাদু এই ফলটিকে অবহেলা না করে আমাদের খাদ্য তালিকায় যোগ করা।

 

ছবি- সাটারস্টক

সম্পর্কিত লেখা

ডায়াবেটিস রোগীদের কোন ফল খেতে বাধা নেই?
সুস্থতা

ডায়াবেটিস রোগীদের কোন ফল খেতে বাধা নেই?

ডায়াবেটিস এখন বহুল পরিচিত একটি রোগ। আপাতদৃষ্টিতে খুব ক্ষতিকর কোনও অসুখ বলে মনে না হলেও যেহেতু এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী অসুখ, যা কখনই নিরাময়যোগ্য নয়, তাই...

ডায়াবেটিস কী, কত ধরনের হয়ে থাকে এবং এর চিকিৎসা কী হতে পারে?
সুস্থতা

ডায়াবেটিস কী, কত ধরনের হয়ে থাকে এবং এর চিকিৎসা কী হতে পারে?

এখনকার সময়ে ডায়াবেটিস খুব কমন একটি রোগ। আমাদের দেশে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। শিশু থেকে বৃদ্ধ যে কোনো বয়সের মানুষেরই এই রোগ হতে পারে। এ...

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ | টাইপ লক্ষণ কারণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কী?
সুস্থতা

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ | টাইপ লক্ষণ কারণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কী?

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ অথবা ডায়াবেটিস মেলিটাস (ইংরেজিতে Diabetes mellitus) একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। দেহে অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে...

আপনার সন্তান কি ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত?
মা ও শিশু

আপনার সন্তান কি ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত?

এখনকার দিনে ডায়াবেটিস খুব সাধারণ রোগ হয়ে গেছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, খাওয়া দাওয়ায় অনিয়ম, অপর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম আর অসময়ের ঘুমের অভ্যাস, এসব কারণেই দি...

আরও পড়ুন

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবে যে ৮টি খাবার
সুস্থতা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবে যে ৮টি খাবার

সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস একটি বড় সমস্যা। ডায়াবেটিস হলে ওষুধের পাশাপাশি খাওয়াদাওয়ার মাধ্যমে শরীরের শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। কিছু খাবার রয়েছে যেগু...

ডায়াবেটিসে ত্বকের সমস্যা | কোন লক্ষণগুলো দেখে সচেতন হবেন?
স্বাস্থ্য

ডায়াবেটিসে ত্বকের সমস্যা | কোন লক্ষণগুলো দেখে সচেতন হবেন?

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র খুবই পরিচিত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। বর্তমানে এটি সব থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া একটি ক্রনিক ডিজিজ। সারাবিশ্বে কয়েক মিলিয়ন মানুষ এটিতে...

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস
সুস্থতা

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস

আজ ১৪ই নভেম্বর, বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির অনুরোধে, বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবে, জাতিসংঘের সম্মতিতে গত ৬ বছর ধরে সারাবিশ্বে ১৪ই নভ...

প্রি ডায়াবেটিস এর লক্ষণ এবং ঝুঁকি কমানোর উপায় কী হতে পারে?
সুস্থতা

প্রি ডায়াবেটিস এর লক্ষণ এবং ঝুঁকি কমানোর উপায় কী হতে পারে?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার পর সবাই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে, লাইফস্টাইলে নিয়ে আসে পরিবর্তন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ৮০ শতাংশ মানুষ জানেন না যে তারা প্রি ডায়...

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস | লক্ষণ, কারণ এবং চিকিৎসা কী?
মা ও শিশু

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস | লক্ষণ, কারণ এবং চিকিৎসা কী?

একজন নারী মা হওয়ার শুরু থেকে সন্তান জন্ম দেয়া পর্যন্ত নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে সময় পার করেন। যেমন রক্ত স্বল্পতা, ব্লিডিং, বমি, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ইত্যা...

শিশুর শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে কী করে বুঝবেন?
মা ও শিশু

শিশুর শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে কী করে বুঝবেন?

মানব দেহের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য যত রকম পুষ্টি প্রয়োজন তার মধ্যে আয়রন অন্যতম। জন্মের পর প্রথম পাঁচ বছরে শিশুর সব রকম বিকাশের মূল ভিত্তি স্থাপন হয়। এই...

…